‘লোক সেট করেছি, মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নাই, হাটুয়া ভেঙে দেব। পত্রিকায় এর আগেও একটা নিউজ লেখেছিলেন, ওই সময় এলাকার ছেলে হিসেবে আমি ছাড় দিয়েছি। এবার আর কোনো ছাড় দেব না।’
রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং ওই এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মো. মাহেদুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে আমাদের সময়-এর রংপুর প্রতিনিধি খন্দকার রাকিবুল ইসলামকে এভাবেই মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। এমন হুমকি দেওয়ার একটি কল রেকর্ড গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডে অধ্যক্ষ বলেন, যদি হাটুয়া ভাঙতে না পারি, তাহলে আমি অধ্যক্ষগিরি ছেড়ে দেব। ওই সাংবাদিক অধ্যক্ষকে বলেন, ‘আপনি আমার পা ভেঙে দিতে চাচ্ছেন, আমি কী অ্যাভিডেন্স ছাড়া আপনার বিরুদ্ধে রিপোর্ট লিখেছি?’ জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘অ্যাভিডেন্স বুঝি না। আমি কীভাবে পরীক্ষায় নকল সরবরাহ করেছি, প্রমাণ দেন। অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘আমাকে লাগবে না, আপনি দু-তিন মাসের মধ্যে কার মাইর খাচ্ছেন, দেখেন। আমি শুধু অভিশাপ দিলাম। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি ছাড় দেওয়া পাটি নই, আমি ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেব, তখন বুঝবি কত ঠেলা।’
খন্দকার রাকিবুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ওই অধ্যক্ষের প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে অর্থের বিনিময়ে নকল সরবরাহ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল আমাদের সময় পত্রিকার অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওইদিন বিকেলে অধ্যক্ষ আমাকে ফোন দিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।’ তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষের হুমকির পর থেকে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় আমি জিডি করার প্রস্তুতি নিয়েছি।’
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ওই সাংবাদিকসহ সাতজন সাংবাদিক কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। আমি সবাইকে একসঙ্গে প্রবেশ করতে নিষেধ করি। পরে ইউএনও মহোদয় এলে তার সঙ্গে তারা প্রবেশ করে আমার অফিসে চা খান। পরে বের হয়ে আমার বিরুদ্ধে নকল সরবরাহের অভিযোগ এনে পত্রিকায় নিউজ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই সাংবাদিকের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা নিউজ করায় আমার মাথা ঠিক ছিল না। তাকে কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলেছি পারিবারিক সম্পর্কে। তবে এটা আমার বলা ঠিক হয়নি।’
