রাজধানীর তথা দেশের সর্ববৃহৎ আবাসিক এলাকা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। কিন্তু গত ৩০ বছরেও প্রকল্প এলাকায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্লট মালিকরা দাবি তুলেছেন পূর্বাচল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, স্বতন্ত্র সিটি করপোরেশন এবং পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে তিনটি থানা গঠনের। অনতিবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধান না করলে রাজউক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গতকাল শনিবার প্লট মালিকদের নিয়ে গঠিত ‘পূর্বাচল সোসাইটির’ প্রথম সভায় বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে আশু করণীয় হিসেবে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। পূর্বাচল ক্লাবে এ সভার শুরুতে সোসাইটির মুখ্য সংগঠক ও সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। সভায় বক্তব্য দেন ডেসকোর চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব ও অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সচিব বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহায়তায় ছিলেন সাবেক সচিব বেলায়েত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল কবির, দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূঁইয়া রানা, ব্যবসায়ী মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ, এম এ তাহের, প্রফেসর নূর মোহাম্মদ, মনোয়ার হোসেন পাঠান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত অনেক সাবেক ও বর্তমান সচিব, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিরাজমান সমস্যা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, গোটা এলাকায় ২১ হাজার আবাসিক এবং ৭ হাজার অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক প্লটসহ ২৮ হাজার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হলে এটিকে একটি অত্যন্ত সুন্দর নতুন শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অথচ তিন দশকেও এটি বাসোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এখানে নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো পুলিশ স্টেশন (থানা)। রূপগঞ্জ থানা পূর্বাচল থেকে অনেক দূরত্বে। বিদ্যুৎ সমস্যারও সমাধান হচ্ছে না। অধিকাংশ সেক্টর ও প্লটে বিদ্যুৎ লাইন কিংবা পোস্ট সরবরাহ করা হয়নি। ১, ২, ৩ নম্বর সেক্টর ছাড়া অবশিষ্ট সেক্টরে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়নি। সুয়ারেজ পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও পুরোপুরি হয়নি। অধিকাংশ রাস্তা নিম্নমানের ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও ফুটপাত নেই। কোনো সড়ক বাতিও নেই। প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে অদ্যবধি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা ক্লিনিক এবং মার্কেট বা স্টোর হয়নি। কোনো পার্কও প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। অন্যদিকে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। এরই মধ্যে অনেকেই প্লট বিক্রি করে অন্যত্র ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয় করছেন অথবা প্লট বিক্রি করে বিদেশে টাকা পাচার করছেন।
