নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় চাঁদা না পাওয়ার জেরে শফিউল আলম নামের এক গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১ টার দিকে অভিযোগ পেয়ে ভিকটিম শফিউল আলমকে চান্দগাঁও থানার বিসিক শিল্প এলাকার আজিম গ্রুপের কারখানার সামনে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনা ‘জেনেও চুপ থাকার’ অপরাধে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে শোকজ করেছে কেন্দ্র।
ভুক্তভোগী শফিউল আলম আজিম গ্রুপের গার্মেন্টেসে সিনিয়র সুপার ভাইজার পদে কর্মরত আছেন। অভিযুক্তরা হলেন-চান্দগাঁও থানা যুবদল নেতা মো. সোহেল ও থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলফাজ। তার পরিবারের দাবি, সোহেল ও আলফাজের নেতৃত্বে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত শফিউলকে তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ছুটি শেষে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তার উপর থেকে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন তাকে টেনে হিঁচড়ে শফিউলকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে। সেখান থেকে চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি টেকবাজার রেললাইনের সামনে নামিয়ে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে মারধর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানালে পরিবার চান্দগাঁও থানায় অবহিত করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে অপহরণকারীরা পুলিশের অবস্থান টের পেরে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় আসামিদের একজনের নাম সোহেল বলে ভুক্তভোগী জানতে পেরেছেন। সোহেল যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনেকে অপকর্ম করছে। আমি এবং আমার দলের স্পষ্ট অবস্থান- অপরাধীদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না।’
চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আধঘণ্টার মধ্যে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোহেল নামে একজনের নামে মামলা হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
