রাখাইনে মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত সরকারের

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

মিয়ানমারের বেসামরিক লোকজনের কাছে মানবিক করিডর (হিউম্যানিটারিয়ান প্যাসেজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের একক। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে শেখ বাজার এলাকায় গণসংযোগের সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মানুষকে সাহায্য করার ব্যপারে কোনো আপত্তি নেই। জাতিগতভাবে সাহায্য করতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এটা হতে হবে সব মানুষের সমর্থনে। আমরা আরেকটা গাজায় পরিণত হতে চাই না। আমরা যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চাই না। এখানে এসে অন্য কেউ গোলমাল করুক, আমরা চাই না। একে তো রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। আবার মানবিক করিডর দিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হোক সেটা চাই না। আলোচনা করে করিডর দেওয়া উচিত ছিল বলে আমরা মনে করি।’

সংস্কার-নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার কি? আমি বুঝি না। আমি বুঝি গণতন্ত্র, আমি বুঝি মানুষের অধিকার। ইউনূস সরকারের প্রধান দায়িত্ব একটা নির্বাচন করা। সবাই মিলে আমরা অধ্যাপক ইউনূস সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি অনেক জ্ঞানী ও নোবেলবিজয়ী মানুষ, তবে রাজনীতিবিদ নন। গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের স্বার্থে, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন দেওয়া আপনাদের প্রধান কর্তব্য। সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা আপনাদের উচিত। নির্বাচনের সঠিক দিনক্ষণ ও সঠিক রোডম্যাপ দেন অতিশিগগির। এ দেশের মানুষ তাদের নিজস্ব সরকার দেখতে চায়। বর্তমানে এমপি নেই, সমস্যা হলে কার কাছে যাবে। এজন্য আমরা বারবার করে বলছি, সংস্কারটাও হউক, নির্বাচনটাও হোক।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশটাকে জাহান্নামে পরিণত করেছিল। হামলা-মামলা, গুম, খুন, নির্যাতনসহ কোটি কোটি টাকা লুট করেছে তারা। দেশের মানুষ অস্থির হয়ে জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম জিয়া হাসপাতাল থেকে একটি বাণী দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনেক নির্যাতন হয়েছে, রক্তপাত ঘটেছে। আসুন সব প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ি।’ সবাই মিলে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবার আগে বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি মহাসচিব। পরে মির্জা ফখরুল বড় খোচাবাড়ি এলাকায় গণসংযোগে যোগ দেন। সে সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত