বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পে ১১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বিনিয়োগ রয়েছে। এ বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চায় অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। উল্লিখিত বিনিয়োগের বাইরে আরও ২৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিভিন্ন প্রকল্প ঠিকাদারের চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তা ছাড়া আগে চুক্তি হওয়া ৪৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এখনো ছাড় হয়নি। বাংলাদেশে এডিবির বর্তমান পোর্টফোলিওতে ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৫১টি প্রকল্প এবং কর্মসূচি রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সেমিনারের তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রিন্সিপাল প্রকিউরমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ জুলিয়ামিনিয়ান। এসব তথ্য সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আপডেট রয়েছে।
মোহাম্মদ জুলিয়ামিনিয়ান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে কৌশলগত ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছি। আমরা শুনেছি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এক দিনের মধ্যেই কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করছে। কিন্তু আমরা তা জানি না। যদিও বিডায় তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো শর্ত এডিবির নেই।’
বাংলাদেশে ক্রয় প্রক্রিয়ায় এখনো জটিলতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকনোলজির সীমাবদ্ধতা অনেক। একটা প্রকল্প অনুমোদনের আগে এত বেশি ডকুমেন্ট করা হয়, সেগুলো কীভাবে অনলাইনে যোগ করবে? যদিও ই-জিপিতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) সব ধরনের জটিলতা দূর করার চেষ্টা করছে।
গতকালের এই সেমিনারে এডিবি-অর্থায়িত প্রকল্প এবং এডিবি বেসরকারি খাতের কার্যক্রমের মধ্যে চলমান এবং আসন্ন সুযোগ-সুবিধার বিস্তৃত পরিসর সম্পর্কে তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সরবরাহকারী, ঠিকাদার, পরামর্শদাতা, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের সমন্বয়ে ৫০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছিলেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস (বিএসিইএ), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই) এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) সদস্যদের মতো বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররাও উপস্থিত ছিলেন।
