রংপুরের পীরগাছায় উপজেলার এমএসবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৩০ জন কৃষকের প্রায় ১৭ একর জমির ধানগাছ ঝলসে গেছে। সদ্য বের হওয়া ধানের শীষগুলো ঝলসে চিটা হয়ে গেছে এবং অন্য জমির ধানগাছগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে দুজন সম্প্রতি রংপুর জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সর্দার গ্রামের এমএসবি ব্রিকস নামের ইটভাটার পাশের জমিগুলোতে ওই কৃষকরা ধান আবাদ করেছিলেন। গত সোমবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কিছু কিছু ক্ষেতের গাছ ঝলসে ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। যেসব জমির গাছে শীষ এখনো বের হয়নি সেগুলোও পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।
কৃষক বাদশা মিয়া (৫৫) জানান, গত তিন বছর ধরে তার ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মদন, সুরেশ চন্দ্র, দ্বীননাথ, নিখিল চন্দ্র, ইফসুফ আলী, রওশন, সিদ্ধার্থ, রঞ্জিত, সুশান্ত, আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা ক্ষতিপূরণ চাই না। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতি বছর ধান পুড়ে যাবে, আর তারা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে পার পেয়ে যাবে। ভাটামালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তার লোকজন কৃষকদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ইটভাটার কর্মী শহিদুল ইসলাম মন্টু নামের এক ব্যক্তি তাদের হুমকি দিচ্ছেন।
তবে শহিদুল ইসলাম মন্টু হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইটভাটার ম্যানেজার মোনা চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরা কাউকে হুমকি-ধমকি দিইনি। ভাটামালিককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এটা সমাধনের চেষ্টা করছেন।’
ভাটামালিক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাটার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে ওই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: আহসানুল হক বলেন, ‘একেবারে পুড়ে যাওয়া জমিগুলোতে ধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেগুলো কম পুড়েছে সেগুলোতেও চিটা ধান বের হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আপাতত ইটভাটার কারণে জমিগুলোর এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা সরেজমিন তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) কমল কুমার বর্মণ জানান, তারা অভিযোগ পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে ওই ভাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ইটভাটা বন্ধ থাকার কথা। কীভাবে চালু আছে তা খতিয়ে দেখা হবে। কৃষকদের ক্ষতির বিষয়ে আদালতে শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ আছে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
