হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে তত্ত্বাবধায়ক লাঞ্ছিত, ভাঙচুর

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ০১:২৭ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের এক চিকিৎসককে যথাযথ ‘সম্মান’ ও রোগী না দেওয়ার অভিযোগ এনে গতকাল শনিবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তত্ত্বাবধায়কের ল্যাপটপ ভাঙচুর করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসক আহসান হাবিব দুই বছর আগে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কনসালটেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরও যথাযথ ‘সম্মান’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার সকালে তিনি তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে ঢুকে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। তর্কের এক পর্যায়ে আহসান হাবিব তত্ত্বাবধায়কের টেবিলে থাকা ল্যাপটপ দিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন এবং ল্যাপটপ আছড়ে ভেঙে ফেলেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্যরা আহসান হাবিবকে নিবৃত করেন। তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে ভাঙচুরের খবর হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য চিকিৎসক ও স্টাফরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ডা. আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, ‘আমার যা সম্মান তা তিনি (তত্ত্বাবধায়ক) দেন না। আমি কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি সবসময় নেগেটিভলি উত্তর দেন। আমি ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছি। দু বছর আগে জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছি। আমার নামে কোনো চেম্বার নেই। কোনো নেমপ্লেট নেই। আমি যে কক্ষে বসি সেখানে মাত্র দুজন স্টাফ। অথচ মেডিকেল অফিসারের স্টাফ ৫ জন। বিষয়টি জানানো হলেও কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি। আমি তো কনসালটেন্ট, আমার রোগী দেখা মেডিকেল অফিসারের চেয়ে তো কম-বেশি হবে। আমি কতজন রোগী দেখব সে বিষয়টি নিয়ে বললেও তা তিনি নির্ধারণ করে দেননি।’

তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সকালে ডা. আহসান হাবিব আমার কাছে এসে তার চেম্বারে রোগী না পাওয়া প্রসঙ্গে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করার পরেও আমার সঙ্গে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আমার টেবিলে থাকা ল্যাপটপ আছাড় মেড়ে ভেঙে ফেলেন ও ল্যাপটপ দিয়ে আমার গায়ে আঘাত করতে আসেন। তখন আশপাশের লোকজন তাকে ধরে ফেলেন।’

এ ঘটনায় ডা. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত