তামিমের অনুষ্ঠানে সাকিব প্রসঙ্গ

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ০৩:৩১ এএম

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক ক্রীড়াবিষয়ক অনুষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলেন সাকিব আল হাসান। আজ ঢাকায় বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তুলে ধরেন সাকিবের সঙ্গে তার অতীত আলাপচারিতা এবং রাজনীতিতে যোগদানের পরিণতি।

হাফিজ উদ্দিন জানান, ‘সাকিব আল হাসান আমার বাসায় এসেছিল একদিন। আমার পরিচিত সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা তাকে নিয়ে এসেছিল। আমার সঙ্গে পরিচয় ছিল না। এমনিই খেলা দেখেছি টেলিভিশনে। বলল, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়। অ্যাডভাইস নিতে চায়। বললাম, আমি তো বিরোধী দল করি। সে তো বিরোধী দলে যোগ দেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই আসবে না। পরে এলো। তাকে অনেক কথাবার্তা বললাম। তাকে একটা উপদেশ দিয়েছি, যেটি সে গ্রহণ না করে বিপদে পড়েছে। তাকে আমি বলেছি ‘যা করো না করো, আওয়ামী লীগ কোনো দিন করবা না।’ সে এটা শুনে একটু বিমর্ষ হলো। তার ধারণা আওয়ামী লীগে গেলে মন্ত্রী হবে, এটা-ওটা হবে। এমপি তো হবেই।’

আশির দশকে রাজনীতিতে নামার আগে হাফিজ উদ্দিন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের কথা সাকিবকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন জানিয়ে হাফিজ বলেন, ‘তাকে বললাম, দেখো আমিও তোমার মতো খেলোয়াড় ছিলাম। আমারও পরিচিতি ছিল। এক সময় পাকিস্তান জাতীয় দলে আমি একাই বাঙালি ছিলাম। অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু খেলোয়াড় অবস্থায়, জাতীয় দলে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে যোগদান করা আমার ঠিক মনঃপূত হচ্ছে না।’

সাকিবের উদাহরণ টেনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত তামিমকে রাজনীতি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন বিএনপির এই নেতা, ‘এখানে যারা ক্রিকেটের, ফুটবলের, হকির খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে তামিম ইকবালকে বলব, তার যথেষ্ট নাম আছে। তার ব্যাটিং আমার খুব পছন্দ। এ রকম অ্যাগ্রেসিভ খেলোয়াড় এখন দেখাই যায় না। সুতরাং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে হ্যান্ডল করতে পারেনি। যার জন্য মানসিকভাবে খেলার আগে বিড়ম্বিত ছিল। সময়ের আগেই হয়তো কোনো কোনো ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছে।’

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক প্রভাবের প্রসঙ্গে হাফিজ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা তেমন কিছু করেননি আজ অবধি। অনেক কিছুই করার রয়েছে। এর একটা প্রধান কারণ হলো এ দেশের একটি পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, তারা এ দেশের খেলাধুলার অতীতের সব ট্র্যাডিশনকে পাল্টে দিয়েছে। ক্রীড়াসুলভ মনোবৃত্তি এদের মধ্যে একেবারেই দেখা যায় না। এরা অনেক ক্রীড়াবিদকেও বিপদে ফেলেছে।’

তামিম নিজেও এদিন রাজনীতি নয়, ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেন। বিসিবির আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে কারা আমাদের পলিসি মেকার? কারা আমাদের ডিসিশন মেকার? কারা আমাদের রিপ্রেজেন্ট করছে? যারা বোর্ড পরিচালক, তাদের স্বপ্ন কী আমাদের নিয়ে। তাদের ক্রিকেটিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং কী আমাদের নিয়ে। এগুলো প্রতিটি জিনিস জড়িত থাকে বাংলাদেশের ভালো খেলা, জেতা, ভালো না খেলা, সবকিছুর সঙ্গে।’

আর কয়েক মাস পর বিসিবির নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যোগ্য লোকদের বাছাই করার তাগিদও দিয়েছেন তামিম, ‘আমি ছোট হয়ে আপনাদের একটা জিনিস অনুরোধ করব যারা যোগ্য ক্রিকেট বোর্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, জেলা থেকে হোক বা বিভাগ থেকে হোক... যাদের বেসিক ক্রিকেটিং আইডিয়া আছে, যাদের একটা স্বপ্ন আছে যে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, আমি অনুরোধ করব তাদেরই নির্বাচিত করুন।’

বোর্ড পরিচালক হওয়ার পর নিজের এলাকাতেই লিগ আয়োজন না করতে পারাদের সমালোচনা করে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘ক্রিকেটকে আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় খেলা মনে করি। অন্যান্য খেলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এটা বলছি। তবে সবচেয়ে বড় খেলায় যদি এমনটা হয়, কেউ যদি নিজের জেলা-বিভাগে ক্রিকেটে উন্নতি না করে তাহলে তার বোর্ডে আসা প্রয়োজন নেই।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলামসহ ক্রীড়াঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত