মানিকগঞ্জে সাটুরিয়ায় গাজীখালী নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বেইলি সেতু এখন ভয়াল মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতু নির্মাণের পর থেকে সংস্কার না করায় সেতুটি ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিতে সেতুর একপাশ ৫ ফুট মাটির নিচে দেবে গিয়ে হেলে পড়েছে। সংযোগ সড়ক থেকে সেতু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে। গাজীখালী নদীর ওপর ডাইবেশন সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। সাটুরিয়া, ধামরাই ও নাগরপুরের মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে সাটুরিয়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার হাটের দিন কয়েক হাজার মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করে থাকেন। অনেক শিশু শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পার হওয়ার সময় গর্তে পড়ে আহত হয়েছে।
সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ সতর্কবাণী দিয়ে ব্যানারে লিখেছে, ‘সাবধান ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু’। একটি সাইনবোর্ড দিয়েই দায় সেরেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের আদেশ তোয়াক্বা না করে জনসাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন।
জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে গাজীখালী নদীর ওপর সাটুরিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প পাস হয়। ২০১৩ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তখন বিকল্প সেতু হিসেবে এই বেইলি ব্রিজটি স্থাপন করা হয়। বেইলি ব্রিজটি হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সহজ মাধ্যম। ফলে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য নতুন ব্রিজ খুলে দেওয়া হলেও বেইলি ব্রিজকে অপসারণ করতে বাধা দেয় স্থানীয়রা।
গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টিলের বেইলি ব্রিজের একাংশ ৫ ফুট মাটির নিচে দেবে কাত হয়ে গেছে। সেতুর দুপাশের একপাশ সংযোগ সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেতুর পিলারের সঙ্গে রয়েছে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গাজীখালী নদীর ওপর মূল ব্রিজ দিয়ে বেশির ভাগ সময় গাড়ি চলাচল করে থাকে। আর বিকল্প ডাইবেশেন বেইলি সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করে থাকেন সময় বাঁচানোর জন্য। ওই ডাইবেশন সেতুর সঙ্গেই সাটুরিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পাশাপাশি রয়েছে চারটি প্রাইভেট ক্লিনিক। এ ছাড়া উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাটে বেচাকেনা করা হয় ওই বিকল্প সেতু দিয়েই।
সাটুরিয়ার ওষুধ ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিকল্প ডাইবেশন সেতু দিয়ে প্রতিদিন কিন্ডার গার্ডেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কোমলমতি শিশুদের কথা চিন্তা করে সেতু কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি সংস্কার করতে হবে।’
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিকল্প সেতুর পাটাতন মরিচা ধরে জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর সব পাটাতন আগলা হওয়ায় রাতের বেলায় চলাচল করার সময় পথচারীদের অনেকে গর্তে পড়ে আহত হচ্ছে। জনসাধারণের কথা চিন্তা করে আমরা পাটাতনগুলো নিজ খরচে ঝালাই দিয়ে আটকে দিয়েছি। বিশেষ করে হাসপাতালে আসা-যাওয়া এ সেতু দিয়ে সহজ হওয়ায় রোগীরা বেশির ভাগ সময় এটি ব্যবহার করছে।’ তাই দ্রুত সেতুটি সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।
সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার সরকার বলেন, ‘বেইলি সেতু নির্মাণ করার সময় নিচু করে নির্মাণ করা হয়। এতে বর্ষা মৌসুমে সেতুর দুপাশে মাইলের পর মাইল কচুরিপানা আটকে পড়ে। এ থেকে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যায়।’ ব্রিজটি উঁচু ও পুনর্নির্মাণ করার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতু দিয়ে জনসাধারণকে চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে। এটি ছিল একটি বিকল্প সেতু। এটি একাধিকবার অপসারণের জন্য গেলেও জনসাধারণের বাধার কারণে সম্ভব হয়নি। আমরা ইতিমধ্যে প্রতিনিধি দিয়ে বেইলি সেতুটি পরিদর্শন করিয়েছি। এটি দ্রুত সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
