বাঁশখালীতে আবা‌রো হাতির শাবককে মারার অভিযোগ

আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ১১:৫৩ এএম

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় ৬/৭ বছর বয়সী একটি হাতির শাবককে মেরে মাটির নিচে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাতিটিকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৬ মে) সন্ধ‌্যায় ডাক্তার ও বন‌বিভা‌গের কর্মকর্তা‌দের উপ‌স্থি‌তি‌তে পোষ্ট‌মার্ডাম শে‌ষে আবা‌রো মা‌টি চাপা দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

বাঁশখালী উপজেলার পুইছুড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব পুইছুড়ি বচিরা বাপের বাড়ি এলাকার মধ্যম জিরি চিতা খোলা পাহাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় পুইছুড়ি পান চাষি আবুল কাশেম বলেন, আমি সকাল বেলা আমার বাড়ি ভিটার পূর্ব সীমানায় একটি আম গাছ ভেঙে পড়ায় দেখতে গেলে সেখানে দেখি একটা বিশাল মাটির পাহাড়, উপরে ঘাস দেওয়া হয়েছে। তা বন‌বিভাগ‌কে জানা‌লে তারা এ‌সে মাটি কুঁ‌ড়ে দেখে একটি হাতির শাবককে মেরে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাতির শাবকটিকে মারা হয়েছে। পরবর্তীতে মাটি খুঁড়ে দেখতে হাতিটির মৃত দেহ উদ্ধার করে।

এরপর চকরিয়ার দুলহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাতেম মো. জুলকারনাইন (মানিক), বাঁশখালী প্রাণীসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. শাহজাদা মো. জুলকারনাইন (শাওন) হাতির শাবকটি ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তারা বলেন, হাতিটার বয়স আনুমানিক ৬-৭ বছর ছিল। মাদী হাতিটাকে ইলেকট্রনিক শক দিয়ে ৫-৬ দিন আগে মারা হয়েছে। তারপর মৃত হাতিটি পলিথিন দিয়ে পেছিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। যাতে মৃত্যু হাতিটির দূর্গন্ধ লোকালয়ে চলে না আসে।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চুন‌তি অভয়ারন্যের জলদী অভয়ারন্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে ভেটেরিনারি চিকিৎসক টিম হাতির শাবকটির ময়নাতদন্ত করে। হাতিটির বয়স ৬/৭ বছর হতে পারে। ময়নাতদন্তদের রি‌পোর্ট পেলে পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উ‌ল্লেখ‌্য, এর আ‌গে ৬ এ‌প্রিল জঙ্গল পাইরাং এলাকায় এক‌ হাতি‌তে মে‌রে শুড় ও পা‌য়ের নখ গুলো ‌নি‌য়ে যায় দুবৃর্ত্তরা। এছাড়া চুনতি অভযারণ্য ও বাঁশখালীতে বিগত দিনে ২০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। কালীপুর রেঞ্জের অধীনে পাহাড়ি কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া এলাকায় ১১টি এবং জলদী রেঞ্জের আওতায় জলদী, চাম্বল, নাপোড়া, পুঁইছড়ি বনবিট এলাকায় ৯টি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়। তার মধ্যে জলদীতে ১টি, চাম্বলে ৩টি, নাপোড়াতে ৪টি এবং পুঁইছড়িতে ১টি হাতি মিলে বিভিন্ন সময় ৯টি হাতি মারা যায় বলে বনবিভাগের সুত্রে জানা যায়।

চুন‌তি অভয়ারণ্যের জলদী অভয়ারন‌্য রেঞ্জে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জলদী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের চাম্বল বিটের জঙ্গল চাম্বল মৌজার মিতাইঝিরি গুন্ডার টেক এলাকায় একটি বন্য হাতি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। দুইদিন পর চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায় হাতিটি। এর বাইরে ২০২৩ সালের ৮ জুলাই চাম্বলের দুইল্লাঝিরি এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে একটি এবং ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর চাম্বল এলাকার পূর্ব চাম্বলে ধানখেত থেকে একটি হাতির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ। অপর‌দি‌কে  ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত কালীপুর রেঞ্জ আওতায় ১১টি হাতি মারা গেছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৮ জুন আনুমানিক ২০-২৪ বছর বয়সী মাদি হাতি মারা যায় খাদ্য বিষক্রিয়ায়। এর আগে ১১ জুন ১২-১৪ মাসের শাবক, ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ২২-২৫ বছরের মাদি হাতি বৈদ্যুতিক ফাঁদে, ২০২০ সালের ২৯ জুন ৬ বছর বয়সী মাদি হাতি উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে, ১৮ জুন ১২ বছরের হাতি বৈদ্যুতিক ফাঁদে, ২৯ মার্চ ৬০ বছর বয়সী হাতি রোগাক্রান্ত হয়ে, ২০১৯ সালের ৩ জুন ১০০ বছরের মাদি হাতি রোগাক্রান্ত, ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর ১৮ বছরের খাদ্য বিষক্রিয়ায়, ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ১৬ বছরের মাদি হাতি রোগাক্রান্ত হয়ে, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ৯০ বছরের মাদি হাতি শারীরিক দুর্বলতা এবং এর আগে আগে ৩০-৩৫ বছরের মাদি হাতি বৈদ্যুতিক ফাঁদে মারা যায়।

বাঁশখালীর পাহা‌ড়ি এলাকায় বেশ ক‌য়েক‌টি হা‌তি নানা কার‌ণে নানা ভা‌বে মৃত‌্যুবরণ ক‌রে। যা প‌রি‌বেশ কর্মী‌দের ম‌তে প‌রি‌বে‌শের জন‌্য ক্ষ‌তিকর ব‌লে উ‌ল্লেখ ক‌রেন ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত