পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত এই অভিযানটি শুধুমাত্র একটি সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি কৌশলগত সংকল্পের বার্তা ছিল বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। খবর: এনডিটিভি
সূত্র মতে, ২৪টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নয়টি সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্ট স্থানে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নয়টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট স্থানে ৬০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী আহত হয়েছেন। হামলার লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত ৯টি স্থান—মুজাফফরাবাদ, কোটলি, বহাওয়ালপুর, রাওয়ালাকোট, চকসওয়ারি, ভিম্বের, নীলাম ভ্যালি, জেলাম এবং চকওয়াল।ৎ
ভারতের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদ গ্রুপের শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। হামলার ফলে, এসব সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে পাকিস্তান সরকার জানায়, ভারতের হামলায় অন্তত ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও দুই জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য সরবরাহ সহায়তা প্রদান করছে। ভারতীয় হামলার মূল লক্ষ্য ছিল এই সম্পর্কের প্রকাশ এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া।
এদিকে, বিশ্ব শক্তিগুলি উভয় পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও, ভারত তার আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে সমর্থন পেয়েছে। সূত্র জানায়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এসব সন্ত্রাসী স্থান পর্যবেক্ষণ করছিল এবং নিশ্চিত ছিল যে, এসব স্থান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, এই হামলায় লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রশিক্ষক এবং লজিস্টিক কর্মকর্তারাও ছিলেন, যারা পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতায় নির্বিঘ্নে কাজ করছিলেন।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বেসামরিক হতাহতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে তাদের দাবি, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন করা হয়েছিল এবং এসব স্থান সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল।
পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন জানাল তুরস্ক
ভারতের হামলা যুদ্ধ ঘোষণার পদক্ষেপ: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী