বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হিসেবে ভুয়া জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্তির প্রতিবাদ করায় মিনহাজুর রহমান শ্রাবণ (১৭) নামে এক কলেজশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের বিলাসদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
শ্রাবণ নরসিংদী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। সে শহরের বাসাইল এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়ার ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্তরা হলো জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইভা আলমের স্বামী এবং সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সচিব শাহ আলম, তার ভাই শাহেদ হোসেনসহ অন্তত ২০ জন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা প্রস্তুতের সময় আন্দোলনে অংশ না নিয়েও জেলা আওয়ামী মহিলা লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ইভা আলম ও শাহ আলম দম্পতির কন্যা রাইসা আলমের নাম জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
মিনহাজ শ্রাবণসহ নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জুলাই যোদ্ধাদের তালিকায় স্বৈরাচারের দোসরদের তালিকাভুক্তি ও প্রকৃত যোদ্ধাদের নাম না আসা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং জুলাই যোদ্ধাদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আহত হিসেবে অনুদান পায়নি আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে রাইসা। এরপর থেকেই জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ নেত্রী ইভা আলম ও শাহ আলম দম্পতির পরিবার।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বন্ধুকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে নিজ বাড়ি ফেরার পথে ইভা আলমের স্বামী শাহ আলম ও তার ভাই শাহেদ হোসেন দলবল নিয়ে মিনহাজুর রহমান শ্রাবণের ওপর হামলা করে ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম ও তার পরিবারের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা যায়নি। কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার জনকে আটক করা হয়েছে।
