চিকিৎসায় ব্যক্তি ব্যয় ৭০ সরকারি ২৭ শতাংশ

আপডেট : ১১ মে ২০২৫, ০৭:৪২ এএম

দেশে চিকিৎসাব্যয়ের ৭০ শতাংশ ব্যক্তিপর্যায়ে (আউট অব পকেট) ব্যয় করছে মানুষ। বাকি ৩০ শতাংশের মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২৭ শতাংশের মতো ও বাকি ৩ শতাংশ খরচ করছে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলো।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে এই তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশ্ব লুপাস দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

এ সময় উপাচার্য বলেন, রোগীর ব্যক্তিপর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতেরট ব্যয় বেড়ে এখন প্রায় ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে রোগীর ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় ৩০ ও সরকারি ব্যয় ৭০ শতাংশ করতে হবে। কিন্তু রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, রোগীরা চিকিৎসার জন্য বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করেন ওষুধ ক্রয়ে। গাইডলাইন অনুসরণ ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা চালু করতে পারলে রোগীর ব্যক্তিপর্যায়ে চিকিৎসাব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব। চিকিৎসকরা রোগীদের প্রেসক্রিপশনে এমন ওষুধ লিখবেন, যা রোগীর জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। আনরেজিস্ট্রার্ড ওষুধ বা প্রোডাক্ট কোনোভাবেই প্রেসক্রিপশনে লেখা যাবে না।

চিকিৎসায় ব্যক্তি ব্যয় কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগ চিকিৎসকদের জন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করে উপাচার্য। তিনি বলেন, এই বিভাগের চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে এমন ওষুধ লেখেন, যা রোগীর জন্য অতি প্রয়োজনীয় এবং খরচও কম। অন্যরাও এভাবে করলে রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমে আসবে। রোগীদের চিকিৎসাব্যয় কমাতে চিকিৎসকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, বিএমইউর রিউমাটোলজি বিভাগে রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের ফ্যাকাল্টি ও গবেষক। তারা চিকিৎসার জন্য গাইডলাইন তৈরি করেছেন। পাবলিকেশনসের দিক থেকেও তারা এগিয়ে রয়েছেন। বিএমইউর রিউমাটোলজি বিভাগ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, সেবাসহ অনেক ক্ষেত্রেই রোল মডেল।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা জানান, লুপাস হলো বিশে^র অন্যতম রহস্যময় এক রোগ, যা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। এটি সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। লুপাস একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ নেকড়ে। যেহেতু এই রোগের আক্রমণ অনেকটা নেকড়ের আক্রমণের মতো আকস্মিক, তাই একে লুপাস বলা হয়। আজ পর্যন্ত এই রোগের সঠিক কোনো কারণ সম্পূর্ণ জানা যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত