তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে যে বিরোধ তা কমিয়ে আনতে ফের আলোচনায় বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন; তার আগে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
এর মধ্যে দুপক্ষের আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গতকাল রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চতুর্থ দফার আলোচনায় বসেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, বেশ কিছু ‘রেড লাইন’ বা ‘সীমারেখা’ নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকলেও তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়েই বলছে, তারা তাদের কয়েক দশকের বিরোধ কূটনৈতিকভাবে মিটিয়ে ফেলতেই আগ্রহী। নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং সামরিক সংঘাত এড়াতে এখন এই ‘রেড লাইন’ নিয়েই মধ্যস্থতাকারীদের ভাবতে হচ্ছে।
ওয়াশিংটন এখন প্রকাশ্যে ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে বলছে। তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান আলোচনার জন্য সহায়ক নয়।
উইটকফ গত বৃহস্পতিবার ব্রেইটবার্ট নিউজকে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের ‘রেড লাইন’ হচ্ছে ‘কোনো সমৃদ্ধকরণ নয়। অর্থাৎ সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়া যাবে না’। যার মানে দাঁড়াচ্ছে, ইরানকে তার নাতানজ, ফরদো ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, এই বিষয়ে যদি রবিবার (আলোচনায়) ফলপ্রসূ কিছু না হয়, তাহলে এই আলোচনা চলতে পারে না এবং আমরা ভিন্ন পথ নেব।
ট্রাম্প এর আগে কূটনীতিতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। উইটকফের এ মন্তব্যের জবাবে শনিবার আরাগচি বলেন, ইরান তার পারমাণবিক অধিকারের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, ইরান আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, তবে এই আলোচনার লক্ষ্য যদি হয় ইরানের পারমাণবিক অধিকার সঙ্কুচিত করা, তাহলে আমি স্পষ্টভাবে বলছি ইরান তার কোনো অধিকার থেকে এক চুলও পিছিয়ে আসবে না।
