গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আরোপিত স্বাধীনতা

আপডেট : ১৫ মে ২০২৫, ০৩:৩৫ এএম

ধরুন আপনি স্ত্রীকে নিয়ে দেশের বাইরে কোথাও ঘুরতে যাবেন। বিমানবন্দরে গেলেন। বিস্ময় ধরিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বললেন ফ্যাসিস্টের দোসর সাংবাদিকদের তালিকায় আপনার নাম আছে। আপনি যেতে পারবেন কি না সেটা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। অথচ আপনি জানেনই না, ফ্যাসিস্টের হয়ে গেছেন কীভাবে! কারা করল এই তালিকা, কীভাবে করল, কীসের ভিত্তিতে করল? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একজন পোস্ট করেন, যা কিছু সময় পর নিজ আইডি থেকে রিমুভ করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অন্য উৎসুকরা লুফে নেন। তারা শেয়ারের পর শেয়ার দিতে থাকেন। কোনো কোনো গণমাধ্যমও উৎসের সন্ধান না করে খবর ছেপে দেন অনলাইনে। ব্যক্তিগত ও দলীয় মতের অমিল, চাকরিতে পদপদবি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যক্তি আক্রোশ থেকে এসব তালিকা তৈরি হচ্ছে। ফলে যারা সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন, তাদের নামও তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছে আওয়ামী লীগের সময় সরকারের আনুকূল্য গ্রহণ করে সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী সাংবাদিকদের পাশে। এতে ওই সুবিধাভোগীরা পার পেয়ে যাওয়ার পথও প্রশস্ত হচ্ছে। ফলে যারা এসব তালিকা তৈরি করছে তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। শুধু তালিকা নয়, ফেসবুক ও ইউটিউবে এমন সব ভিডিও কনটেন্ট চোখে পড়ে যা শুধু মিথ্যা নয়, তথ্যের রাত-দিন পার্থক্য থাকে। ভিউ বাড়াতে অনেকেই এমনটি করছেন। যেটা গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। হতে পারে, ফ্যাসিস্টের দোসররাই নিজেদের বাঁচাতে এ কাজ করছেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে নানাভাবে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে যেমন নিয়ন্ত্রণ হতো তেমনি দলীয় ফোরাম থেকেও আসত নানা নির্দেশনা। আওয়ামী লীগের মতের বাইরে কিছু লিখা বা আওয়ামী লীগের প্রশংসা না করে কিছু লিখলে, নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হতো। আওয়ামী লীগের বিরোধী মত মানেই জঙ্গি, রাজাকার, জামায়াত তকমা সেঁটে দেওয়া হতো কপালে। শুধু সাংবাদিককে না প্রতিষ্ঠানকেও। আওয়ামী লীগ সরকার কিছু সাংবাদিককে নিজেদের করে নিয়েছিল। যারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন করতেন। যেখানে গুণগান থাকত সরকারের। শুধু সাংবাদিক না আওয়ামী লীগ সরকার সংস্কৃতি ও বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের লোক তৈরি করেছিল। যারা শুধু সরকারের কথা বলবে। এর ফলে ওই সময়ে সাংবাদিকতা বলতে যা হয়েছে, তা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ও গুণগানে ভরপুর। শুধু গণমাধ্যম না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কোনো বিরোধী মত প্রকাশ করা যায়নি। করলেও পুলিশ কড়া নাড়ত দরজায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি হয়েছিল তো বিরোধী মতকে দমনের জন্যই। দেশের প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বস্তরে গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। বিচার বিভাগও বাদ যায়নি। এই পরিবর্তনগুলো ব্যক্তির বদলে ব্যক্তি স্থানান্তর হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বস্তরে দলীয় বৃত্তে আবদ্ধ ছিল। শোনা যায়, তারা প্রশাসনের কয়েকটি স্তরকে সাজিয়ে রেখেছিল যেন আগামীতে সরকারে না এলেও তাদের লোকেরা কর্তৃত্বে বহাল থাকে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এসব বাধা ডিঙাতে বঞ্চিতদের প্রথম সারিতে এনেছে। এমনকি অবসরে যাওয়াদের ডেকেছেন প্রশাসন পরিচালনার জন্য। প্রশাসনে রদবদল হলেও সর্বত্র আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তা কর্মচারী একেবারে নেই, এটা বলা যাবে না। কারণ ১৭ বছরে বহু মানুষ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী ঘরানার। ফলে প্রশাসনে এখনো রয়ে গেছে আওয়ামী বাহিনীর বিচরণ। যদিও এই রদবদল অনাকাক্সিক্ষত নয়। প্রতিটি সরকারই ক্ষমতায় এসে প্রথমে এই কাজটি করে। কারণ হচ্ছে, আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূলত দলীয় ব্যানারে চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। নতুন সরকার এসে তাদের মতাদর্শীদের সে সুযোগগুলো দেয়। বিরোধী মতধারীদের দূরে রাখে। এটাই আমাদের প্রশাসন যা পৃথিবীতে বিরল।

শেখ হাসিনার পতনের পর এবার পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে গণমাধ্যমেও। যেটা বিগত সময়ে দেখা যায়নি। এবারই প্রথম বোধ করি গণমাধ্যমের শীর্ষপদগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। এসব পদে থাকা ব্যক্তিরা শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর হয়তো নিজ থেকে চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন, নতুবা প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে, নতুবা কোনো মহল থেকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই স্থানগুলোতে নিয়োগ দিতে গণমাধ্যম মালিকদের কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহল থেকে তালিকা পাঠানো হয়েছে। মূলত দলীয় আনুগত্যকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকতাকে নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ইদানীং আলোচনা হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে কিছু সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার পরিস্থিতি এবং বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উঠে এসেছে আলোচনায়। আলোচনাটি জোরালো হয়েছে সম্প্রতি এক উপদেষ্টার প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা এবং এই অভিযোগে তিন সাংবাদিকের চাকরি চলে যাওয়ার পর। অভিযোগ উঠেছে, সংস্কৃতি উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করার জেরে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ঘেরাও করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি চ্যানেলে সংবাদ প্রচারও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন করায় চাকরি গেছে দুই চ্যানেলের তিন সাংবাদিকের। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, ওই তিন সাংবাদিকের চাকরি যাওয়ার সঙ্গে উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করার বিষয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। একই কথা প্রধান উপদেষ্টা, প্রেস উইং এবং প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান একাধিকবার বলেছেন। বিশ্ব জুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) সম্প্রতি তাদের যে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স প্রকাশ করেছে, তাতে গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ এগিয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ওই সূচকে ১৬৫তম, যা এবার ১৪৯তম। এর আগে এই সূচকে ২০২৩ সালের রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৩তম। আরএসএফ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর সরকার গণমাধ্যমকে ‘কমিউনিকেশন টুল’ হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং শেখ হাসিনার সরকারগুলোও তার ব্যতিক্রম ছিল না। বিশেষ করে সেন্সরশিপ, সাইবার হয়রানি, কালাকানুন, পুলিশি সহিংসতা এবং সরকার দলীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনার সরকার ক্রমাগতভাবে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে। ফলে গণমাধ্যমগুলো সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা থেকে বিরত থেকে ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ শুরু করে। সর্বশেষ নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের জন্য ‘বিশ্বের অন্যতম কালো আইন’ হিসেবে বিবেচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জায়গায় সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে এসেছিল শেখ হাসিনার সরকার। এ আইনে তল্লাশি ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই আটক ও উপকরণ জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ফলে নিউজরুম এডিটররা নিজেরাই নিয়মিত সেন্সর শুরু করে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্নতির আশা করা হলেও সাংবাদিকরা অরক্ষিত রয়ে গেছেন বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি, আপনারা মন খুলে আমাদের সমালোচনা করেন। আমরা সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় সাংবাদিকরা বেশি সময় আশ্বস্ত থাকতে পারেননি। কারণ এর কিছুদিনের মধ্যে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের পাঁচ সাংবাদিকের চাকরি যাওয়ার অভিযোগ ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার হস্তক্ষেপে। তাদের অভিযোগ, গত ১৮ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ১৫ জন ওই টিভির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন এবং টিভি স্টেশনের ১০ জনের নামের একটি তালিকা দিয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করতে চাপ দেন। পরবর্তী সময়ে, সেই তালিকার পাঁচজনকে ডেকে পদত্যাগ করতে বলার পর তারা তাতে অস্বীকৃতি জানালে একই দিন হোয়াটসঅ্যাপে তাদের অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়। ওই ঘটনার পর সব মিডিয়াই সতর্ক হয়ে যায়। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে পত্রিকা অফিস ঘেরাও, গণহারে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মীর চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটে, যা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আতঙ্কিত করেছে।

সাংবাদিকদের কণ্ঠ চেপে ধরা নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক সরকার এবং সেনা সমর্থিত সরকার বরাবরই এ কাজ করেছে। তখন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আর এখন মব তৈরি করে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। মবের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে মব সন্ত্রাসীদের ছাড়  দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’-এর এ খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ নামে একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এই ৯টি ধারা ছিল কুখ্যাত ধারা। সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৯৫ শতাংশ মামলাই এসব ধারায় হয়েছিল। এ মামলাগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এ ছাড়া এর আগে বিভিন্ন ধারায় যেসব মামলা করা হয়েছিল, সেগুলোও বাতিল হয়ে যাবে।’ এটা সাংবাদিকদের জন্য সুখবর। অন্তত যেসব সাংবাদিক অতীত সরকারের সময়ে এই আইনে নাজেহাল হয়েছেন তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতেই কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ফিরবে? গত ৪ মে পালিত হয়েছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত সম্পাদক পরিষদের আলোচনায় মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। আমাদের কথা বলতে দিতে হবে, লিখতে দিতে হবে, প্রশ্ন করতে দিতে হবে। তাহলেই গণমাধ্যম মুক্তির স্বাদ পাবে। যে দেশে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকের চাকরি যায়, সে দেশে আমরা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি। এর দায় সরকারকে দেব নাকি আর কাকে দেব জানি না। অবশ্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আইনের শাসন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র কিছুই থাকবে না। তিনি যথার্থই বলেছেন, আইন উপদেষ্টা নিজেও একসময় তুখোড় সাংবাদিক ছিলেন। বিষয়টা তিনি বোঝেন। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য সাংবাদিকের স্বাধীনতা দরকার। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সরকারের জন্য খুবই দরকারি। কিন্তু এটা আমাদের রাজনীতিকরা বোঝেন না। গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে রাষ্ট্রের স্তম্ভ রাষ্ট্র দ্বারা ভারাক্রান্ত হলে রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হয়। এ ছাড়া গণতন্ত্রের প্রধান শর্তই তো বাক স্বাধীনতা। জনগণের কথা জানতে হবে রাষ্ট্রকে। পক্ষ-বিপক্ষ নয়, জনমানুষের কথাই বলে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের কণ্ঠ রুদ্ধ হলে রাষ্ট্র জানবে কী করে, মানুষ কী চায়? তাদের অভাব-অভিযোগ কী, কী তাদের চাওয়া-পাওয়া। এতে রাষ্ট্র বধির হয়। পথ হারায়। তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হেলমেট বাহিনী যখন সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দিয়েছিল হামলা চালিয়েছিল, তখন শেখ হাসিনা হেলমেট বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারেননি। আমরা সে পরিস্থিতি দেখতে চাই না। ড. ইউনূস আশা করি, শেখ হাসিনার মতো হবেন না। গণমাধ্যমে মব সন্ত্রাসের হুমকি-ধমকি যারা দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবেন, ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বের কাছে এমনটাই আশা করা যায়। অন্তত যারা প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতা করেন তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলে সরকারই উপকৃত হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও সংবাদ বিশ্লেষক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত