অর্থনৈতিক সংকট সব দেশে আছে, আমাদেরও আছে। বিষয়টা স্বাভাবিক হলেও বিগত ১০-১৫ বছরে দেশের অর্থনীতিতে যা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। সরকারি-বেসরকারি খাতসহ ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার সবখানে নামে-বেনামে লুটপাট হয়েছে। যোগ্য কর্মকর্তাদের সরিয়ে দুর্নীতিবাজদের বসিয়ে একটি বিশেষ মহল অর্থনীতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এখন সেসব ব্যক্তি-গোষ্ঠীর উপস্থিতি না থাকলেও তাদের অত্যাচারের ক্ষত অর্থনীতি বয়ে বেড়াচ্ছে। সে জন্য নানামুখী সমস্যার সহজ সমাধান চাইলেও সম্ভব নয়। তবে সার্বিকভাবে অর্থনীতি যদি ভালো করতে থাকে তাহলে সংকট কেটে যাবে। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলে কনফিডেন্সের ওপর। সরকারের উদ্যোগগুলো সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এখন যেটি হচ্ছে, তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সুফলের আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ও সুফল একসঙ্গে পেতে চাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষার নিশ্চয়তা চাচ্ছেন। তাদের এই চাওয়াটা পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের ক্ষরা ও সুদের হারের বিষয় রয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল আছে এবং ব্যাংকিং খাতের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান দেওলিয়া প্রায়। এখানে একীভূত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়টি সরকারকে দেখতে হবে। কারণ যে প্রতিষ্ঠান চলবে না তা জোর করে চালানো মানেই অর্থের অপচয়। আরেকটি বিষয় হলো শুরু থেকেই ইন্স্যুরেন্স খাতে শৃঙ্খলা নেই। এখানে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি শক্ত না। সব মিলিয়ে মানুষ অর্থনীতির সব খাতেই আস্থা হারিয়েছিল। ব্যাংকিং বলেন আর ইন্স্যুরেন্স বা শেয়ারবাজার সবখানেই একই অবস্থা।
যদিও ইতিমধ্যে সরকার আর্থিক খাতের দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে শে^তপত্র প্রকাশ করেছে। সেটি মূলত লুটপাটের চিত্র। বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের ক্ষতির চিত্র। কিন্তু উত্তরণের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে গাইড লাইন তৈরি করা জরুরি, যা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাহলে সরকারি-বেসরকারি, ব্যাংক এবং শেয়ারবাজার সব ক্ষেত্রে আস্থা ফিরবে।
স্বল্পমেয়াদে বলতে আজকেই সব ঠিক করে দিতে হবে, এমনটি আশা করা ঠিক হবে না। অনেকে মিছিল মিটিং করে চাপ সৃষ্টি করছেন। গঠনমূলক সমালোচনা বা দাবিকে স্বাগত জানাতেই হবে। তবে সমস্যা সমাধানে সরকারের আগ্রহে ঘাটতি আছে বলে মনে হয় না। সে জন্য সরকারের উদ্যোগগুলোকে বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে। এতে সবাই উপকৃত হবে। একটা তৃপ্তির বিষয় হলো সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা কী, তাদের আশা-আকাক্সক্ষা কী, তারা কী চাচ্ছেন, এসব বিষয়ে সরকারের উপরমহল জানেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সমস্যা চিহ্নিত করছেন, সমাধান করছেন বা সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন।
উদাহরণ হিসেবে শেয়ারবাজারের কথা বলা যায়, এতদিন বিভিন্ন কারসাজি করে শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন সরকার চেষ্টা করছে, স্থিতিশীল করতে। কিন্তু মূল্যস্ফীতির চাপ কমানের লক্ষ্যে ব্যাংক সুদের হার যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, তাতে শেয়ারবাজারে টাকা আসার সুযোগ কম। জুয়াড়ি চক্র খারাপ বা দুর্বল কোম্পানির সুনির্দিষ্ট শেয়ারকে উচ্চতায় নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে, সেখান থেকে তাদের বের হওয়াটা অসম্ভব। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব প্রণোদনা বা সুযোগ-সুবিধা ছিল, বিগত সরকার পর্যায়ক্রমে সেসব সুবিধা বাতিল করেছে। সামনে জাতীয় বাজেট। আশা করছি, বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির জন্য সুবিধা দেওয়া হবে।
বলে রাখা ভালো আইসিবি সৃষ্টি হয়েছিল শেয়ারবাজারে ভূমিকা বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু জুয়াড়িরা বিগত সময়ে বিশেষ কায়দায় বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতে আইসিবিকে জাঙ্ক শেয়ার কিনতে বাধ্য করেছে। যে শেয়ার ১০০ টাকায় কিনেছে এখন তা ২০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছে না। ফলে আইসিবির দায়দেনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, সে নিজেকে সামলাতেই কষ্ট হচ্ছে। হাজার সমস্যার মধ্যে সরকার আইসিবির পাশে দাঁড়িয়েছে, সহযোগিতা করেছে। আইসিবি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
ব্যাংকিং খাতের প্রসঙ্গে বললে বলতে হবে বিগত সরকার ব্যক্তি স্বার্থে এ খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স দিয়েছে। যেগুলো এখন অর্থনীতির গলার কাঁটা। প্রতিবেশী ভারত আমাদের অর্থনীতির থেকে ৮-১০ গুণ বড়। সে দেশে ব্যাংক সংখ্যা আমাদের তুলনায় অর্ধেক এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। এ ছাড়া ভারতে থাকা বিদেশি ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। এতে সে দেশের শেয়ারবাজার অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিপরীতে আমাদের ব্যাংকগুলো নিজেরাই চলতে পারছে না। আবার এখানে যেসব বিদেশি ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে, তারা পুঁজিবাজারের বাইরে। তাদের থেকে বিনিয়োগকারীরা কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। যেমন ব্যাংকিং খাতে ২০২৪ সালে বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। দেশীয় প্রথম কাতারের চারটি ব্যাংক একত্রে এত টাকা আয় করতে পারেনি। কিন্তু সত্য হলো, ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।
এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, আমাদের দেশীয় ব্যাংক বেশি সুদেও আমানত পাচ্ছে না। সেখানে বিদেশি ব্যাংকে কম সুদে বেশি আমানত পাচ্ছে এবং তারা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে ঝুঁকিমুক্তভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, আমানতকারীদের আস্থা এবং ওইসব ব্যাংকের ওপর কনফিডেন্স। সে জন্য আমি বলে থাকি ব্যাংকিং ব্যবসায় মূল বিষয় হলো প্রতিষ্ঠানের ওপর কনফিডেন্স। বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমানকারীদের আস্থা ছিল। কিন্তু সেই ব্যাংককে তছনছ করা হয়েছে। একইভাবে প্রথম সারির প্রায় সব ব্যাংক থেকে টাকা লুটপাট হয়েছে। আমানতকারীদের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। ফলে সুদহার বাড়িয়েও আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা কেমন, তা এলসি খোলার চিত্র দেখলে বুঝতে পারবেন। বিদেশিরা এসব ব্যাংকের এলসি নিচ্ছে না। তৃতীয় প্রতিষ্ঠান (থার্ড পার্টি) সহায়তায় এলসি করতে হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গে আসি আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা ফলপ্রসূ হবে না। সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি রোধের ধারণা আইএমএফের। এ ধারণা উন্নত দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেখানে চাহিদা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আমাদের ক্ষেত্রে চাহিদার পরিবর্তে সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিতে যেহেতু সুদিনের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে সে জন্য সুদহারের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃমূল্যায়ন করা দরকার। অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক সরকার আসলে এগুলো সমাধান হবে। এটা অযৌক্তিক নয়। কারণ রাজনৈতিক সরকার উদারনীতির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক সরকারের তুলনায় কম নয়। সে জন্য আমি মনে করি, নির্বাচন পর্যন্ত বা রাজনৈতিক সরকার পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, একটি লিবারাল মনিটারি পলিসি (উদার মুদ্রানীতি) গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে মানুষের কাছে টাকা থাকবে। তারা পছন্দমতো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
বিদেশে যখন নাগরিকের হাতে অতিরিক্ত টাকা চলে আসে, খরচ বেশি হয়, তখন মুদ্রা সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যাতে মানুষ কম খরচ করে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি না। আমাদের এখানে নিত্যপণের সরবরাহ অব্যবস্থাপনার জন্য মূল্যস্ফীতি হয়ে থাকে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করা হয়। বিগত সরকার তেলের দাম হুট করে ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছিল। ভোগ্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণ ছিল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। আবার আমদানিতে পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা এলসি পায়নি। বাংলাদেশের মতো দেশে মৌসুমভিত্তিক সরবরাহ পণ্য ও আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যে জন্য আমি মনে করি, রিজাভ ঠিক থাকলে ডলারের দাম ঠিক থাকবে এবং আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব। সুখবর হলো ইতিমধ্যে রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় ধরে রাখতে পারলে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ফলে আইএমএফের প্রয়োজন পড়বে না। এমনকি রিজার্ভ বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, তাতেও আইএমএফের ঋণের সাহায্যের প্রয়োজন আছে আমি মনে করি না। কারণ আইএমএফ যে পরিমাণ ঋণ দেবে, সেই ঋণে রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা থাকবে না। যাদের রিজার্ভ সমস্যা রয়েছে, আইএমএফের কাছ থকে তারা ঋণ নিয়ে থাকে। রিজার্ভ সমস্যায় থাকা এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ আইএমএফের ঋণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে বিষয়ও আমাদের মনে রাখতে হবে।
অন্য কথা হলো আমাদের যেসব স্বাধীন বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারা স্বাধীন থাকতে চাচ্ছে কি না। সেটি প্রশ্ন। বিগত সময়ে যাদের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে দেখেছি। তারা অন্যের অধীন থাকতে বেশি ব্যস্ত থেকেছে। এ জন্য আমি সবসময় বলি স্বায়ত্তশাসন ওই ব্যক্তিকে দেওয়া উচিত, যে স্বাধীন থাকতে চায়। যে স্বাধীন থাকতে চায় না তাকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে দিলে সেই প্রতিষ্ঠান কি স্বাধীন হবে!
বিগত সময়ে দেশের অর্থনীতির আরেকটি বিষয় ছিল বড় ঘাটতি বাজেট দেওয়া। আকার বড় হলেও ভেতরে ছিল ফাঁকা। কর আদায়ের নামে নিয়মিত করদাতাদের ঘাড়ে নতুন নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তালিকার বাইরে থাকা কোম্পানির করহারের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। উল্টো যারা তালিকাভুক্ত তাদের ওপর নতুন করের বোঝা এসেছে। তাহলে নতুন কোম্পানি কেন শেয়ারবাজারে আসবে! পুঁজি সংগ্রহে উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে ব্যাংকনির্ভর হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়কে শেয়ারবাজার ও শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা কোম্পানির করহারের পার্থক্য বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি এবং নতুন তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির আলাদা আলাদ তালিকা করে দিয়েছি। আশা করছি উপরমহল প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দেবেন।
দেখেন পাকিস্তানের পিআইএ, ভারত এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করে দিয়েছে, তাহলে আমরা কেন বিমানকে ধরে রাখব। বিদেশে এসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, হিথ্রো বিমানবন্দর তালিকাভুক্ত। বাংলাদেশে তো আমরা এটা চিন্তাও করিনি। আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর রয়েছে। এ বন্দর আন্তর্জাতিকভাবে কতকিছু করা সম্ভব ছিল। এখন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আরও ১০-১৫ বছর আগেই বিদেশিদের সুযোগ দেওয়ার দরকার ছিল। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে সংযুক্ত করা যেত। এতে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হতো। সেটি না করে আমরা স্থানীয়দের দিয়েছি। যারা ঘুষ দিয়ে ব্যবসা করে। আমরা শুধু প্রতিবেশী প্রতিবেশী বলি, তাদের কাছ থেকে কিছু শিখি না। আমরা শুধু বড় বড় ঘাটতি বাজেট করি। বিমানের মতো কোম্পানিগুলোকে বহু আগে বিক্রি করে দেওয়ার দরকার ছিল। আরেকটি উপায় ছিল শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা। সরকারি বা বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হলে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তারা বার্ষিক হিসাবে গরমিল করে। জাবাবদিহি থাকে না। চুরি করে। দুর্নীতি করে। আর তালিকাভুক্ত হলে সংশ্লিষ্টরা জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। তখন তারা সঠিক হিসাব দিতে বাধ্য থাকবে। চুরি করা সহজ হবে না।
আশার বিষয় হলো নানামুখী সংকটে থাকা দেশ এখন স্থিতি অবস্থায় এসেছে। সরকারের কার্যকরি সংস্কার কমিশনগুলো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। সংকট ও সমানের উপায় চিহ্নিত হয়ে গেছে। ফলে আস্থার সংকট কেটে যাবে। দেশ একটি সুন্দর বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ, সাবেক অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
