লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কুমড়ীরহাট থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙা অংশে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন এবং হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুমে স্রোতের তোড়ে রাস্তার একাংশ সতী নদীতে ধসে পড়ছে।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্যবোঝাই গাড়ি এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করে। ভাঙা রাস্তায় অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
ভ্যানচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি চলতে গেলে গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। যাত্রীদের নামিয়ে ঠেলে গাড়ি পার করতে হয়। কৃষক হুজাইফা বলেন, ‘এ রাস্তায় অটোতে উঠলে কলিজাটা কেঁপে ওঠে।’
গত ১১ মে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। তখন রাস্তাটি একদমই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পাশ দিয়ে প্রবাহিত সতী নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিবছরই কুমড়ীরহাট বাজার এলাকায় রাস্তার কিছু অংশ ধসে পড়ছে।
কমলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সোবহান বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অভিভাবকরাও শঙ্কায় থাকেন। দ্রুত রাস্তার সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বারবার আবেদন করলেও রাস্তা সংস্কার হয়নি। রাজনৈতিক বিরোধের কারণেও এ রাস্তা সংস্কারসহ ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজ হয়নি বলে তার অভিযোগ।
কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি বলেন, ‘এ রাস্তা আমাদের ইউনিয়নের প্রাণ। এখানে প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়, যা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। আমরা বারবার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’ তিনি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
এলজিইডি আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘পাকা রাস্তার অংশটি আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাকি ২ দশমিক ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি নদীভাঙন প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
