বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম গন্তব্য আমিরাত

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০১:২০ এএম

টি-টোয়েন্টির পরবর্তী বিশ্বকাপ আগামী বছর, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে এই আসর মাঠে গড়াবে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি-মার্চে। বাংলাদেশ থেকে এই দুই দেশে যেতে দুবাই যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রথম গন্তব্য দুবাই। লিটন দাসকে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই সংস্করণের অধিনায়ক নিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, তার নেতৃত্বে প্রথম সিরিজের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আজ শারজায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে লিটনের বাংলাদেশ।

মূলত পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে যাওয়ার পথে দুবাইতে যাত্রাবিরতি আর সঙ্গে খানিকটা প্রস্তুতি। এই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে পাকিস্তান সুপার লিগের মধ্যে ছেদ পড়ে, সাময়িক বন্ধের পর আজ থেকে ফের মাঠে গড়াবে খেলা। এর ফলে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ খানিকটা পিছিয়ে যেতে পারে, যে কারণে হয়তো এবারে দুবাই থেকে পাকিস্তান যাত্রা না-ও হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। বিশ্বকাপকে নিশানায় রেখে নতুন দর্শনে দল সাজানোর কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও বলেছেন দলের অভ্যন্তরীণ

সংস্কৃতিতে বদল আনার কথা। সব কিছুরই প্রমাণ মিলবে আমিরাতের বিপক্ষে মাঠের খেলায় বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে। অধিনায়ক লিটনের ব্যাটে রান নেই। নেতৃত্বের চাপ তার ব্যাটিংয়ে আরও প্রভাব ফেলবে নাকি অনুপ্রেরণা জোগাবে সেটাই দেখা যাবে আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে। লিটনকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক করা হলেও সহ-অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান দায়িত্ব পেয়েছেন আমিরাত ও পাকিস্তান সিরিজের জন্যই। দায়িত্বের মেয়াদ যেন বাড়ে সেই দাবি জোরালো করার দায়িত্বও মেহেদির।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের সঙ্গে যে অপবাদটা সবসময়ই জুড়ে থাকে, সেটা হচ্ছে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে না পারার অক্ষমতা। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে থাকে না সেই ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী, থাকে না অবলীলায় চার ছক্কা মারতে পারার সৌন্দর্য। যদিও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এবং অতীতে কোচরা সম্মিলিতভাবেই গায়ের জোরের অভাব, জিনতত্ত্বসহ অনেক কিছুকেই অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তবে ১৪ বছর বয়সের বৈভব সূর্যবংশী যখন অবলীলায় আইপিএলে খেলা নিজের প্রথম বলেই শারদুল ঠাকুরের ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে দেন, তখন স্পষ্টই প্রমাণ হয় যে গায়ের জোর বা অভিজ্ঞতা নয়, টি-টোয়েন্টির জন্য যে মানসিকতা দরকার সেটারই ঘাটতি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। দেশ ছাড়ার আগে সালাহউদ্দিনও বলেছেন, সমস্যাটা ক্রিকেটারদের মাথায়। সেই ‘মাথার সমস্যা’ কাটিয়ে র‌্যাংকিংয়ে ৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা দেশের বিপক্ষে কতটা ‘লজিক্যাল ক্রিকেট’ খেলতে পারে বাংলাদেশ, শারজার সিরিজে সেটাই পরখ করে দেখার।

চলতি বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামছে বাংলাদেশ, শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্যস্ত সূচির। যেখানে সামনের দিনগুলোতে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, অংশ নেবে এশিয়া কাপেও (যদি মাঠে গড়ায়)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বরাবরই বাংলাদেশের কাছে হতাশার প্রতিশব্দ। যাত্রার প্রথম পদক্ষেপে তাই প্রতিপক্ষের চেয়ে আত্মশুদ্ধিই মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে আমিরাত দলে ফিরিয়েছে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আমিরাতের হয়ে সর্বোচ্চ রান তার, ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে জোর দিতেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগে। তাকে ফের নেতৃত্বে রেখেছে আমিরাত ক্রিকেট কর্র্তৃপক্ষ। নেদারল্যান্ডসে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের ম্যাচে ওয়ানডে খেলতে ব্যস্ত থাকা আমিরাত ক্রিকেট দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ফরম্যাট এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

বাংলাদেশ দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ছড়াছড়ি, তবে রান করার মানুষের বড্ড অভাব। সৌম্য সরকারের সবশেষ ৩ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে রান ১০, ৪৩, ১১; পারভেজ হোসেন ইমনের শেষ ৩ ইনিংসে রান ১৬, ০ ও ৩৯, তানজিদ হাসান তামিমের ৬, ২ ও ৯, লিটনের রান ০, ৩ ও ১৪ আর নাজমুল হোসেন শান্তর ২৭, ১১ ও ১৪। শেষ ৩ ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের হাফসেঞ্চুরি নেই। লিটনকে তিনে খেলানো হবে বলেছেন প্রধান নির্বাচক, তাতেও দূর হচ্ছে না দুশ্চিন্তা। বেশিরভাগ সময়েই বাংলাদেশ দলে রানটা আসে লেজের জোরে। জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন আর রিশাদই ভরসা। তবে বোলিংটা আস্থা জোগায়। চোটের কারণে তাসকিন আহমেদের অনুপস্থিতি আর প্রথম ম্যাচের পর মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল খেলতে চলে গেলেও নাহিদ রানা, তানজিম হাসান সাকিব, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলামদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণটার আমিরাতের ব্যাটসম্যানদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে পারার কথা।

দুবাইতে প্রতিপক্ষ আমিরাতের চেয়ে বেশি ভোগাতে পারে প্রকৃতি ও তাপমাত্রা। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে। শারজার উইকেটে ১৭০-১৮০ রানকে মোটামুটি নিরাপদ বলা যায়, তবে প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের হয়ে এই রানটা করবেন কারা?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত