এ যেন ঘরের শত্রু বিভীষণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত এই দাবি করতেই পারেন। কেননা তার দল রিপাবলিকান পার্টির পাঁচ আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত করছাড় বিল প্রতিবন্ধকতার মুখে ফেলেছেন। আরও বড় পরিসরে খরচ কমানোর দাবিতে রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থি এই সদস্যদের বিরোধিতায় শুক্রবার হাউজ বাজেট কমিটিতে প্রস্তাবটি প্রাথমিক ধাপেই আটকে যায়। বিলটির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন পাঁচ রিপাবলিকান।
এ ঘটনা ট্রাম্পের জন্য একটি বিরল রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প নিজেই একে ‘বিশাল সুন্দর বিল’ হিসেবে প্রচার করে আসছিলেন। এই ভোটের আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কথা বন্ধ করো, কাজ শেষ করো!’
রিপাবলিকানদের মধ্যে বিলটির সমর্থনের ভিন্ন ভিন্ন দিক আছে। কিছু কট্টরপন্থি বাজেট কাটছাঁটকে এগিয়ে নিতে চান। আবার কেউ কেউ স্বাস্থ্যসেবার মতো কর্মসূচিগুলোয় অর্থ কমানোর বিষয়ে উদ্বিগ্ন। যে পাঁচজন রিপাবলিকান এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তারা বলছেন, হাউজ স্পিকার মাইক জনসন মেডিকএইড কর্মসূচিতে আরও ব্যয় কমানোতে রাজি না হলে তারা এ বিলের বিরোধিতা অব্যাহত রাখবেন। তাদের নির্বাচনী এলাকার অনেকেই এর ওপর নির্ভরশীল। তারা একই সঙ্গে চান যে ডেমোক্র্যাটদের সময় করা ‘পরিবেশবান্ধব জ¦ালানিতে কর অব্যাহতির’ বিষয়টি বাতিলের প্রস্তাব এই বিলে অন্তর্ভুক্ত থাকে। মেডিকএইড নিম্ন আয়ের আমেরিকানদের জন্য নেওয়া একটি কর্মসূচি। ‘এ বিলটি খুব দুর্বল’ এমন মন্তব্য করেছেন বিলটির বিপক্ষে ভোট দেওয়া টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা চিপ রায়। প্রস্তাবিত বিলে করছাড় কিছুটা সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছে। বিলে বকশিশের ওপর কর না থাকলেও সমালোচকরা বলছেন এই বিল ধনীদেরই সুবিধা দেবে।
ডেমোক্র্যাটরা পুরোপুরিভাবেই বিলটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা স্বাস্থ্যসেবার কর্মসূচিগুলোয় খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনার দাবি করেছেন। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ব্রেনডান বয়লে বলেন, আর কোনো বিল, আইন বা ইভেন্ট অতীতে এভাবে লাখ লাখ নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নষ্টের কারণ হয়নি। এমনকি তীব্র মন্দার সময়েও তা হয়নি। কংগ্রেসের জয়েন্ট ট্যাক্স কমিটির মতে, বিলটি পাস হলে আগামী ১০ বছরে করছাড়ের মূল্য হবে ৩ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনাও একবারেই শেষ হয়ে যায়নি। তবে এবারে প্রাথমিক পর্যায়ে এর ব্যর্থতা এ বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য প্রথম বড় আঘাত।
