৫ দিনের মধ্যে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’র রূপরেখা দাবি

আপডেট : ১৮ মে ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে’র রূপরেখা প্রকাশ ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্র্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানলে ১৯ মে থেকে আবারও মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার বিকেলে ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এমন কথা জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ইউজিসি ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকেবি)’ নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব দিয়েছে কিন্তু ঘোষণা ছাড়া তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি হলো ১. রবিবারের মধ্যে অন্তর্র্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ২. অন্তর্র্বর্তী প্রশাসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ভুতুড়ে ফলের সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধসহ যাবতীয় অসংগতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। ৩. অন্তর্র্বর্তী প্রশাসন গঠনের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ৪. আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ^বিদ্যালয়ের রূপরেখা এবং লোগো/মনোগ্রাম প্রকাশ করতে হবে। ৫. আগামী এক মাসের অর্থাৎ আগামী ১৬ জুনের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সরকার সাত কলেজের এ সমস্যা সমাধানে গত ডিসেম্ব^রের শেষের দিকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেয়। একই সঙ্গে এ সমস্যা সমাধানে তাদের চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল এ কমিটির সময়সীমা শেষ হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা এমন সময়ক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। দাবি বাস্তবায়নে আমরা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতাও করেছি। এজন্য মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি টেবিলের আলোচনাও জারি রেখেছি। এখনো আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা আমাদের শিক্ষার অধিকারটুকু চাই।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চূড়ান্ত এবং লোগো ও মডেলও প্রস্তুত হওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্তর্র্বর্তী প্রশাসনের প্রজ্ঞাপন দেওয়ার কথা থাকলেও তা কোনো এক অদৃশ্য কারণে এখনো ঝুলে আছে। অন্তর্র্বর্তী প্রশাসনের প্রজ্ঞাপন ও অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষাসহ সবকিছুতেই আমাদের এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, এটা একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত