পাকিস্তানের ১ কোটিরও বেশি মানুষ চরম খাদ্যসংকটে

আপডেট : ১৯ মে ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকট বা তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিল। গতকাল রবিবার দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে। ‘২০২৫ গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব খাদ্যসংকটে পড়া মানুষ দেশটির বালুচিস্তান, সিন্ধ ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বন্যাক্রান্ত ৬৮টি গ্রামীণ জেলার অন্তর্ভুক্ত। জরিপ করা জনসংখ্যার ২২ শতাংশ বর্তমানে এই সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ লাখ মানুষ জরুরি অবস্থায় রয়েছে।

এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৫ কোটি ৮ লাখ মানুষ এবং ২৫টি জেলা। এফএও বলছে, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া এখনো জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়েও প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটে ভুগেছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বালুচিস্তান ও সিন্ধের বিভিন্ন বিশ্লেষণাধীন এলাকায় চরম পুষ্টিহীনতার উচ্চমাত্রা বিরাজ করছে। এখানে গ্লোবাল অ্যাকিউট ম্যালনিউট্রিশনের (জিএএম) হার ১০ শতাংশের ওপরে ছিল, এমনকি কিছু জেলায় তা ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে গেছে।

পুষ্টি সেবার পরিসর বাড়াতে অর্থসংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালেও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা এবং খাদ্যসংকটের কারণে চরম অপুষ্টির ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২১ লাখ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগেছে। খাদ্যের গুণগত মান ও পরিমাণ ছিল অপ্রতুল, যা শীত মৌসুমে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, জীবিকা সংকোচন ও বাজারে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতার কারণে আরও তীব্র হয়। বিশেষ করে সিন্ধ ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় অন্তঃসত্ত্বা ও দুধদানকারী মায়েদের মধ্যে চরম অপুষ্টির হার ছিল বেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেক শিশু জন্ম নিচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন নিয়ে। একই সঙ্গে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ছিল উচ্চমাত্রায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত