‘ভারতের আধিপত্য কখনোই মেনে নেবে না পাকিস্তান’

আপডেট : ১৯ মে ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দেশ ভারতের আধিপত্য কখনোই মেনে নেবে না। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা সামনে রেখেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত আমেরিকা নয়, পাকিস্তানও আফগানিস্তান নয়। ভারত ইসরায়েল নয়, পাকিস্তানও ফিলিস্তিন নয়। পাকিস্তানকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না, আর কাউকে আমাদের ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। আমরা কখনো ভারতের আধিপত্যের কাছে মাথা নত করব না। তারা যত দ্রুত এটা বুঝবে, ততই আঞ্চলিক শান্তি এবং বৈশ্বিক স্থিতির জন্য মঙ্গলজনক হবে।”

ভারতের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও ঘৃণা এখন ভারতের ঘরোয়া সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে দেশের সরকার মুসলিম ও শিখদের মতো বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আরও বেশি ক্ষোভ, উগ্রতা ও সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে।

এর আগে আরবভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আরটি-আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পাকিস্তান কোনো সহিংস জাতি নয়। আমরা একটি শান্তিপ্রিয় জাতি, শান্তিই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

পাকিস্তানি জনগণের মানসিকতা ও চেতনাকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরিণত শক্তিগুলো ভালোভাবে বোঝে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পেছনের ঘটনা তুলে ধরে আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেন, “ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানান। আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিই—এ কারণে আমরা এতে সম্মত হই।”

তিনি আরও জানান, পাকিস্তানি কূটনীতিকরা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত সাড়া দিয়ে ভারতের সামনে বাস্তবতা তুলে ধরেন।

জেনারেল চৌধুরী দাবি করেন, ৬ ও ৭ মে রাতে ভারতের বিমান হামলায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব এবং আজাদ কাশ্মীরে ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জবাবে পাকিস্তান পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং পরবর্তীতে আরও ডজনখানেক ড্রোন ধ্বংস করে।

এরপর ৯ মে রাতে ভারত পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালায়। পাকিস্তান এর প্রতিক্রিয়ায় চালায় “অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস”—যেখানে ভারতীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালানো হয়।

স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেনারেল চৌধুরী বলেন, “৯ ও ১০ মে রাতের ঘটনায় ভারত ভয় দেখাতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল—পাকিস্তানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী একতাবদ্ধ, অটুট প্রাচীরের মতো।”

তিনি জানান, ১০ মে সকালে পাকিস্তান পাল্টা জবাব দেয়, তবে কেবলমাত্র ভারতের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে। “একটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত করা হয়নি। এটি ছিল দায়িত্বশীল, ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া।”

পাহেলগামের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে ভারতের একতরফা অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেনারেল চৌধুরী। বলেন, “এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য পেছনের ঘটনাগুলোও দেখা জরুরি। পাহেলগামের ঘটনায় কোনো তদন্ত শুরুর আগেই ভারতীয় মিডিয়া পাকিস্তানকে দোষারোপ করে বসে। অথচ দুই দিন পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই জানায়, তদন্ত চলছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার মধ্যে কী ধরনের বিচক্ষণতা আছে?”

পাকিস্তানের অবস্থান পরিষ্কার জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে তা নিরপেক্ষ কোনো সংস্থাকে দেওয়া হোক। পাকিস্তান তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু ভারত সেই যৌক্তিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একতরফাভাবে পাকিস্তানের মসজিদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যেখানে নারী, শিশু ও বয়স্করা শহীদ হন।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তরক্ষা সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তারা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে—যেকোনো মূল্যে।

তিনি ভারতের বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনে বলেন, “ভারত এ অঞ্চলে বিশেষ করে পাকিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবাদে সরাসরি মদদ দিচ্ছে। সেটা হোক খারিজ (টিটিপি)-এর মতো গোষ্ঠী অথবা বেলুচিস্তানে সক্রিয় অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত মাসে পাঞ্জাবের ঝেলাম থেকে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ভারতের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত