চোর দাবি করে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা!

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০৭:১১ এএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ঘুরছে। ওই ভিডিওটি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নশরৎপুর স্টেশনে বগুড়া থেকে সান্তাহার অভিমুখী একটি কমিউটার ট্রেনের। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনে ঝুলছে। কিছুক্ষণ পরে প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে যায়। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে চোর ও ছিনতাইকারী বলে দাবি করা হয়।

ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মতিউর রহমান (৪২)। তিনি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের বসিন্দা। এ ঘটনায় মতিউর রহমানের পরিবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পরিবার ও এলাকাবাসীদের মাধ্যমে জানা যায়, মতিউর পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজ শুরু করেন। কয়েক দিন আগে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার তালশান গ্রামের মোহাম্মদ হেলালের ছেলে সজীব হোসেনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবে পাঠান মতিউর। সৌদি যাওয়ার পর বৈধ কাগজপত্র পেতে দেরি হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন ১ সপ্তাহ আগে মতিউরের বাড়ি যায় এবং কাগজপত্র নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে বগুড়া থেকে ফেরার পথে ট্রেনে মতিউর রহমানকে একা পেয়ে সজীবের ছোট ভাই রাকিব এবং সজীবের শ্যালক মিলে মোবাইল চোর ও ছিনতাইকারী বলে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিবারের দাবি ওই সময় মতিউরের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেন তারা।

মতিউরের ছেলে আহসান হাবিব জানান, ট্রেনের নিচে পড়লেও তার বাবা কোনোরকম প্রাণে বেঁচে যান। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় আদমদীঘি থানা-পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানান। থানা থেকে রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়। পরে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তারাও অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানান। থানা থেকে বলা হয় যেহেতেু জিবিত আছেন সেহেতু মামলা নেওয়া যাবে না। মারা গেলে মামলা নেওয়া যেত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সজিব হোসেনের ছোট ভাই রাকিব হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সজীব হোসেনের বাবা মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, গত ১ মাস আগে তার বড় ছেলে সজীবকে মতিউরের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠান। বিনিময়ে চার লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন মতিউর। কিন্তু মতিউর তার ছেলেকে কোনো কাজ দিতে পারেননি। গত ১ সপ্তাহ আগে মতিউরের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলের কাজের বিষয়ে জানতে চাইরে  মতিউরকে কোনো হুমকি প্রদান করা হয়নি। মতিউরকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওযার ব্যাপারে তিনি জানান বগুড়া থেকে আসার সময় সজীবের শ্যালকরা ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে মতিউরকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তার ছেলে রাকিব সেখানে কিছুই করেনি।

বগুড়ার আদমদিঘী থানার ওসি এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনা রেলওয়ে পুলিশের বিষয় তাই আমরা কোনো অভিযোগ নেইনি।

সান্তাহার রেলওয়ে থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি জিআরপি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, মতিউর রহামনের পরিবার পথমে আদমদীঘি থানায় অভিযোগ দিতে যায়। সেখান থেকে তাদের রেলওয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বলায় রেলওয়ে থানায় এসেছিল। আসার পরে তাদের নাকি আবার আদমদীঘি থানা থেকে ফোন করা হয় থানায় যাওয়ার জন্য তখন তারা আবারও আদমদীঘি থানায় চলে যায়। ওসি জানান  তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। তাদের থানায় অভিযোগ দিলে নিতে তারা প্রস্তুত এবং তদন্ত সাপেক্ষে মামলাও নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত