পঙ্গুর পরিচালকের কক্ষের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঁচ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২ থেকে ২টা পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি তুলে ধরেন সেগুলো হলো ফিজিওথেরাপি কোর্সে শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ, ফিজিওথেরাপি বিভাগের ক্লিনিক্যাল পদে নিয়োগ, হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর কোর্স মাস্টার্স ইন ফিজিওথেরাপি দ্রুত চালু, ইন্টার্ন ফিজিওথেরাপিস্টদের ইন্টার্ন ভাতা ও পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, ফিজিওথেরাপি ল্যাব, ছেলেমেয়েদের পৃথক কমনরুমের ব্যবস্থা করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, এ সময় পরিচালক হাসপাতালে ছিলেন না। তবে পরিচালকের পক্ষে হাসপাতাল প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা দাবির সঙ্গে সম্মতি প্রকাশ করেন এবং কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আলোচনার আহ্বান জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালকের কক্ষের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি করার এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফেরত না যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এ সময় বাপসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, গত বছর ৩১ আগস্ট নানা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে আন্দোলন করেন। হাসপাতাল প্রশাসন দাবির বিষয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেয় ও সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দাবিগুলো ন্যায্য ও বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন হাসপাতাল পরিচালক। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এসব দাপ্তরিক কাজ করার কথা নয়। ফিজিওথেরাপি কোর্স এই হাসপাতাল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। তাই কোর্সসংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব-কর্তব্য হাসপাতাল প্রশাসনের, শিক্ষার্থীদের নয়।

এ বিষয়ে বাপসুর আহ্বায়ক আশিকুর রহমান বলেন, ইন্টার্ন ভাতা ইন্টার্ন ফিজিওথেরাপিস্টদের ন্যায্য অধিকার। সেই ভাতার জন্য হাসপাতাল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছর এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তর পাঠিয়ে শুধু সময় নষ্ট করছেন। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত