গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত বেড়ে ৫৩ হাজার ৫০০

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০৮:২৯ এএম

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই হামলায় গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে নতুন করে আরও অন্তত ৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৫৩ হাজার ৫০০ জনে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর মধ্যরাত থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে ব্যাপকভাবে বোমাবর্ষণ শুরু করে। এতে আরও ৩৮ জন নিহত হন।

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৩৬ জন ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৪৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬৪ জন। ফলে চলমান এই সংঘাতে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৯৮ জনে। বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে কিংবা রাস্তার পাশে পড়ে আছেন, যাদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪০ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৫৭ জন। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা ভঙ্গ করে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফের বিমান হামলা শুরু করে।

এই হামলা শুরুর পেছনে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিষয়ে হামাসের সঙ্গে মতবিরোধকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধবিরতির পর প্রায় দুই মাস গাজায় তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের অধিকাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে গাজায় চলমান আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়ছে। কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল নতুন করে হামলা বন্ধ না করলে তার বিরুদ্ধে ‘জোরালো পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। অন্যদিকে ২২টি দেশ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতি।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) মামলার কার্যক্রম চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত