চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেলে পড়েছে একটি সাত তলা ভবন। উপজেলা সদরের কোর্ট পাড় এলাকার ভবনটি প্রায় ১৫-১৮ ইঞ্চি হেলে পড়ে পাশের একটি ছয়তলা ভবনের গায়ে ঠেকেছে। ভবনটির বাসিন্দারা জানান, কিছুদিন আগে দুটি ভবনের মাঝে এক হাতের মতো ফাঁকা ছিল। কিন্তু এখন ভবনটি অন্যটির গায়ে হেলে পড়েছে।
জানা যায়, সদরের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বিপরীতে ১০০ গজ সামনেই (বিএস ৭৮৫৫ নং) দাগের উপর পৌরসভার বাসিন্দা মো. আবদুল খালেক সাত শতক জমির ওপর নির্মাণ করেন সাত তলা ভবনটি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটির নকশা এখনো বাতিল করছে না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খবর নিয়ে জানা যায়, ভবনটির মালিক আবদুল খালেক ২০১৯ সালে এটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ সময় পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে ছয় তলা ভবনের অনুমোদন নেন। ২০২২ সাল থেকে সেখানে লোকজন বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণের প্রথম দিকে ৩-৪ ইঞ্চি হেলে পড়ে ভবনটি। সে সময় এলাকাবাসী মৌখিকভাবে এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়। অভিযোগ করার পর কর্তৃপক্ষ ভবন মালিককে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তাগাদা দেয়। কিন্তু অজানা কারণে তা বেশিদিন এগোয়নি। ফলে ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটিতে ২১টি পরিবার বাস করে। ভবনের পাশে বসবাসরত মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘এটির অবস্থা খুবই খারাপ। এটি বর্তমানে প্রায় ১৮-২০ ইঞ্চি ঝুঁকে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে অনেক লোক থাকলেও দেখার কেউ নেই। খালি চোখে বিষয়টি অনেকে দেখলেও কর্তৃপক্ষ কিছুতেই দেখে না। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।’
ফটিকছড়ি পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রাজীব বড়ুয়া বলেন, ‘ভবনটির ছয় তলার অনুমোদন আছে। পরে অন্যায়ভাবে তিনি সাত তলা করেছেন। এটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
ভবনটির মালিক মো. আবদুল খালেক প্রবাসে থাকেন। চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোনে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ভবনটির তত্ত্ববধান করেন স্বজন মো. নেজাম উদ্দিন বুলবুল। যোগাযোগ করা হলে নেজাম উদ্দিন বুলবুল সাংবাদিক পরিচয় জেনে ক্ষেপে যান।
তিনি বলেন, 'আপনি কে? আপনাকে এসব বিষয় বলব কেন? পরে তিনি বলেন, ‘ভবনটি করার আগে পৌর কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছেন। বুয়েট পরীক্ষিত প্রকৌশলীর তত্ববধানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণের বিষয়টি অবান্তর।’
ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘জেনেছি ভবনটি কিঞ্চিৎ হেলে পড়েছে। যেহেতু এখনো কোনো স্ট্রাকচারাল ক্ষতি হয়নি, তাই বাসিন্দারা এখনো আছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পেলে বিষয়টি দেখা হবে। তবে বিষয়টি পুরোই ইউএনওর এখতিয়ার।’
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) প্রকৌশলী সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘ভবন হেলে পড়া মানেই ত্রুটি-বিচ্যুতির অংশ। এর দায় কেউ এড়াতে পারেন না। আশা করি স্থানীয় প্রশাসন দেখে ব্যবস্থা নেবে।’
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঠিক কী কারণে ভবনটি হেলেছে, সে বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভবনের বাসিন্দাদের কেউ বলছেন, আগে থেকেই খানিকটা হেলে ছিল। কেউ বলছেন, ইদানিং এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’
