সারা দেশে ব্যবসা বন্ধের হুমকি দিলেন ব্যবসায়ী নেতারা 

আপডেট : ২১ মে ২০২৫, ১১:২৩ এএম

বাণিজ্য সংগঠনগুলোর বিদ্যমান বিধিমালায় 'ইতিপূর্বে' শব্দ অন্তর্ভুক্ত করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের (ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে একটি পক্ষকে দূরে রাখার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সংগঠনটির সাবেক নেতারা। এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার লেডিস ক্লাবে ‘এফবিসিসিআই স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সাবেক ব্যবসায়ী নেতারা।

সভায় বক্তারা বলেন, এফবিসিসিআই সংস্কারের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে, তাতে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত বা ভেটিংও নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু বাণিজ্য উপদেষ্টার মতামতের পর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। তবে নতুন খসড়ায় এমন কিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

তাঁরা জানান, এর আগে প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় টানা দুইবার নির্বাচন করার পর একবার বিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেন। এ ছাড়া অন্য সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে হঠাৎ করে ‘ইতিপূর্বে’ শব্দ যুক্ত করে বর্তমান বা অতীতের দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক পরিচালকদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই প্রক্রিয়া শুধু এফবিসিসিআই নয়, দেশের অন্যান্য চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনেও প্রযোজ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সভায় যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মোতালেব বলেন, “সভাপতি ও সহসভাপতিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করা, দুইবার দায়িত্ব পালনের পর একবার বিরতির বিষয়সহ অনেক কিছুই আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু যাঁরা যোগ্য, তাঁদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার এই ষড়যন্ত্র মানা হবে না। বর্তমান প্রশাসক ও সহায়ক কমিটিতে যারা রয়েছেন, তারা নিজেরা জটিলতা তৈরি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটা অবৈধ, গোপন ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”

তিনি আরও বলেন, “যদি ‘ইতিপূর্বে’ শব্দটি বাদ না দেওয়া হয়, তাহলে সারা দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে প্রশাসক ও তার দালালদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এফবিসিসিআইয়ে এমন একজন প্রশাসক আনা হয়েছে, যিনি ছাত্রদের আন্দোলনে চাকরি হারিয়েছিলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন না, কারণ ব্যবসার জ্ঞান তার নেই।”

সভায় সদস্য সচিব জালাল উদ্দিন বলেন, “যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের রুখতেই আজ আমরা একত্র হয়েছি। প্রয়োজনে প্রশাসক ও সহায়ক কমিটিকে টেনে হিঁচড়ে মতিঝিল থেকে বের করে আনতে হবে। আমরা আমাদের এফবিসিসিআই ফেরত চাই।”

আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, “এফবিসিসিআই এখন ভারতের হোটেলে পরিণত হয়েছে। প্রশাসক ও সহায়ক কমিটির লোকজন সকালে অফিসে এসে দুপুরে চাঁদা তুলে খেয়ে ফিরে যান। তারা আসলে এই হোটেল ছাড়তে চান না। আমরা চাই প্রশাসক ব্যবসা না বুঝলে যেন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের দিয়ে এফবিসিসিআই পরিচালনা করেন। কিন্তু তাঁর সে যোগ্যতাও নেই।”

তিনি বলেন, “আমরা প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি সেখানে সংস্কারের নামে ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কিছু থাকে, তাহলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

জানা গেছে, নতুন বিধিমালায় এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ৮০ থেকে কমিয়ে ৪৬-এ নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন মনোনীত ও বাকি ৩৪ জন নির্বাচিত হবেন। সহসভাপতির সংখ্যা ৬ থেকে ৩-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতির মতো শীর্ষ পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচনের বিধান রাখা হচ্ছে।

বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত ‘ইতিপূর্বে’ শব্দটি অনুযায়ী, যারা টানা দুইবার পরিচালক ছিলেন, তারা একবার বিরতি না দিয়ে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এই বিধান শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, পূর্ববর্তী মেয়াদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে গত দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী অনেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এই বিধানের ফলে শীর্ষ সংগঠনটিতে যোগ্য নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ পরিষদের সদস্যরা। তাঁদের মতে, আইন সাধারণত ভবিষ্যতের জন্য প্রণীত হয়। কিন্তু এখানে পূর্ববর্তী পরিচালকদের নির্বাচন থেকে সরাতে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক পরিচালক হাজী এনায়েত উল্লাহ, নিয়াজ আলী চিশতী, খন্দকার রুহুল আমিন, কাউসার আহমেদ ও হাজী আবুল হাশেমসহ অনেক ব্যবসায়ী নেতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত