ইশরাকের শপথ ঠেকাতে রিটের আদেশ আজ

আপডেট : ২২ মে ২০২৫, ০৮:১৩ এএম

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি গতকাল বুধবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এদিন কোনো আদেশ দেননি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, রিটের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে আজ বৃহস্পতিবার।

বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার দিন ধার্য করেন। আদালতে ইশরাক হোসেনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন।

এর আগে, গত ২০ মে বিকেলে একই বেঞ্চে রিটের শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২১ মে দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওই শুনানিতেও রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন এবং ইশরাকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন।

গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়। এতে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসি মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনার পাশাপাশি তাকে মেয়র ঘোষণা করা ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও চাওয়া হয়।

এই রিটটি দায়ের করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ। আবেদনকারীর পক্ষে আইনি সহায়তা দেন আইনজীবী কাজী আকবর আলী।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে প্রায় পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন।

এরপর রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির নতুন মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এদিকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দাবিতে ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা কয়েকদিন ধরে নগর ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। বুধবারও তারা প্রথমে মৎস্য ভবনের সামনে এবং পরে কাকরাইলে অবস্থান নেন। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। রাতে সেই অবস্থান কর্মসূচিতে নিজেও যোগ দেন ইশরাক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত