উদ্বোধনের আগেই লোকসানের শঙ্কা

আপডেট : ২৩ মে ২০২৫, ০৬:২০ এএম

পাবনার নগরবাড়ী নৌবন্দর, উত্তরবঙ্গের সর্বাধুনিক নৌবন্দর হিসেবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৫৬৩ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, জুনের মধ্যে পুরোপুরি হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বোধনের আগেই লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্যমতে, নগরবাড়ী ঘাট নদীপথে সার, সিমেন্ট, কয়লাসহ ভারী পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০১৮ সালে এই ঘাটকে আধুনিক নৌবন্দরে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও মামলার কারণে দুই দফা মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পর কাজ প্রায় শেষের পথে। ৩৬ একর জমির ওপর নির্মিত এই বন্দরে রয়েছে ৩৬০ মিটার কংক্রিটের জেটি, টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, গোডাউন, বাফার গোডাউন, ওপেন শেড ও দ্রুত পণ্য লোড-আনলোডের সুবিধা। ক্রেন ও পাকা জেটির ব্যবহারে পণ্য খালাসের গতি বেড়েছে ১০ গুণ, যা রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই নৌবন্দরে ৩৬ একর জমির ওপর তৈরি হয়েছে ৩৬০ মিটার কংক্রিটের জেটি, টার্মিনাল, ওয়ারহাউজ, গোডাউন, বাফার গোডাউন, ওপেন শেড, ওপেন স্টেজসহ দ্রততম সময়ে পণ্য লোড-আনলোডের সব সুব্যবস্থা। হস্তান্তরের আগেই পাকা জেটি ও ক্রেন ব্যবহারে পণ্য খালাসে আধুনিক সুবিধা পেতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার হলে বন্দরের কর্মচাঞ্চল্যে বদলে যাবে নগরবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির চালচিত্র।

নগরবাড়ী থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে থাকা ট্রাকচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরে আগে শ্রমিক মাথায় করে মালামাল জাহাজ থেকে খালাস করতেন। তাতে অনেক সময় লাগত। এখন জাহাজ সরাসরি পাকা জেটিতে ভিড়ছে। ক্রেনে মালামাল সরাসরি ট্রাকে তোলা হচ্ছে। সময় কম লাগছে। পাকা রাস্তা ও ইয়ার্ডে গাড়ি আনা-নেওয়ায় ভোগান্তি দূর হয়েছে। বন্দর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলে পণ্য আনা-নেওয়ায় গাড়ি চলাচল বাড়বে, আমাদের কাজ ও আয় বাড়বে।’

স্থানীয় শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, যা আমাদের জন্য উপকারী। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমদানি-রপ্তানি ব্যাপক কমেছে।

নগরবাড়ী বণিক সমিতির সহসভাপতি ও আমদানিকারক ইমান আলী বলেন, বন্দর নির্মাণ হওয়ায় আমাদের পণ্য আনা-নেওয়ায় সুবিধা বেড়েছে। এখানে সার রাখার জন্য বাফার গোডাউন করা হয়েছে। আধুনিক সব সুবিধাই আছে। কিন্তু এখানে আশপাশের কয়েকটি ঘাটের তুলনায় খরচ কিছুটা বেশি হওয়ায় আমদানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তবে অধিক পরিমাণ পণ্য আমদানি হলে খুব বেশি লস হবে না। এ ক্ষেত্রে সার, কয়লা ও পাথর আমদানিকারকদের সঙ্গে সরকার সমন্বয় করে নিলে ভালো হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নগরবাড়ীতে পণ্য আমদানি ব্যাপক কমে যাওয়ায় ইজারাদাররা লোকসানে পড়ছেন। ফলে ঘাট ইজারাও কেউ নিতে চাইছেন না।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াকিল বলেন, নগরবাড়ী বন্দরে প্রতিদিন পণ্য খালাস হয় গড়ে ২ হাজার টন, কাজ শেষ হলে যা করা যাবে অন্তত ২০ হাজার টন পর্যন্ত। তবে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তারা পণ্য আমদানি ব্যাপক হারে কমিয়ে দিয়েছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানিতে ধস নেমেছে। ফলে ইজারাদাররা ঘাট ইজারাই নিতে চাইছেন না।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন বন্দরে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো সব আধুনিক ব্যবস্থা আছে। জাহাজ থেকে সরাসরি কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব। কিছুদিন মংলা, চট্টগ্রামে কাজ করা বড় বড় বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের এখানে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল। কিন্তু পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় তারাও আর আসছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত