বছরের পর বছর ডুবে আছে সড়ক। কোথাও কোথাও গাড়ি উল্টে পড়ছে খানাখন্দে। এমন চিত্র কুমিল্লার বিসিক শিল্পনগরীর। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৯৬০ সালের শেষ দিকে কুমিল্লা নগরীর আশোকতলা এলাকায় ৫৪ দশমিক ৩৫ একর জমিতে গড়ে ওঠে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। তবে ৬৫ বছর পার হলেও দুরবস্থা কাটেনি।
বর্তমানে শিল্পনগরীর বেশিরভাগ সড়ক ভাঙাচোরা। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। পানি জমে থাকে সড়কে, ঢুকে পড়ে কারখানায়ও। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বিসিক এলাকায়। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাগুলো মেরামত না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন কারখানা মালিক, শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বিসিকের একটি খাদ্য তৈরির কারখানার কর্মকর্তা মামুন বলেন, ‘৬৫ বছরেও উন্নয়ন নেই বিসিকে। রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তাগুলো এতই ভাঙা যে হেঁটে চলাও কষ্টকর।’
আরেক কারখানার পরিচালক মো. আলী আকবর বলেন, ‘জলাবদ্ধতা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে অনেকে এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’
বিসিক সূত্র জানায়, এখানে ১৪৯টি প্লটের মধ্যে ১৪২টিতে শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ১৩১টি। এখানে প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন আর বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুনতাসীম মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে বিসিকের ভেতরে আমরা ৭ কোটি টাকার কাজ করেছি। একটি সড়ক ছাড়া বাকি সব সড়ক ভালো। আর ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। তাই সড়কে পানি উঠে যায়। এদিকে নতুন রেললাইন নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি ওঠে। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের কাছে বারবার বলা হয়েছে। এটি শুধু আমাদের সমস্যা নয়। এটি পুরো শহরের প্রধান সমস্যা। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হবে। এটি নিয়ে বরাদ্দ আসছে, জাইকার অর্থায়নে কাজ শুরু করা হবে। প্রধান ড্রেনটি হয়ে গেলে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মামুনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
