ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বদক্ষিণের উপজেলা নাসিরনগর। হাওর বেষ্টিত এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ডাকাতিপ্রবণ। তবে সম্প্রতি মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। মূলত ডাকাতরা মরদেহে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সচেতন মহলে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ডাকাত দল কর্তৃক মরদেহে অস্ত্রের আঘাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেনি।
অবশ্য, ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারেও মরদেহে ডাকাতদের আঘাত করার কথা উল্লেখ করেননি বাদী মো. আলমগীর আলম। এছাড়া লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে প্রথমে ৯টি মোবাইল ফোনসেট এবং অর্ধ লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয়ার দাবি করা হলেও এজাহারে ৫টি মোবাইল ফোনসেট, নগদ ৪৫ হাজার টাকা এবং একটি সোনার চেইন লুট হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবুলপুর গ্রামের বাসিন্দা, ক্যান্সার আক্রান্ত ছবদর আলী গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। স্বজনরা ওইদিন রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি মকবুলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া এলাকায় ডাকাতদলের কবলে পড়ে। এ সময় ডাকাতরা অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ৯ জনকে পিটিয়ে ৯টি মোবাইল ফোনসেট ও অর্ধ লাক্ষাধিক টাকা লুটসহ মরদেহে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ১৩-১৪ জনকে আসামি করে গত শুক্রবার (২৩ মে) মৃত ছবদর আলীর ছেলে আলমগীর আলম বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। গতকাল শনিবার (২৪ মে) ভোরে আব্বাস মিয়া (৩২) ও সেন্টু মিয়া (৩৬) নামে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে মামলার এজাহারের সঙ্গে ঘটনার পর আলমগীর মিয়ার বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে মরদেহে অস্ত্র দিয়ে কোনো আঘাত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অ্যাম্বুলেন্সের ভাঙা কাঁচ তার বাবার মরদেহের ওপর পড়ে বলে দাবি করেন আলমগীর।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি তিলপাড়া মোড়ের পাঁচশ গজ পশ্চিম দিকের সড়কে পৌঁছালে সেখানে একটি গাছ দেখতে পেয়ে চালক অ্যাম্বুলেন্স থামান। এ সময় মুখোশ পরা ১৩-১৪ জন ডাকাত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের চারপাশ ঘিরে ফেলে। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ডাকাতরা অ্যাম্বুলেন্সের কাঁচ ভাঙচুর এবং চালককে মারধর করে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সে থাকা বাকি আরোহীদেরকেও মারপিট করে বাদী আলমগীরের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন, তার ভাই সালাউদ্দিনের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন, আলমগীরের বন্ধু রাসেলের কাছ থেকে তার গলার সোনার চেইন ও একটি স্মার্টফোন, তার দুই ভাগ্নে নাহিদ ও সাকিবের কাছ থেকে দুইটি বাটন ফোন এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক ফিরোজের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা লুটে নেয় ডাকাতরা। সবমিলিয়ে ৫৩ হাজার টাকার মোবাইল ফোনসেট, নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও ৩৫ হাজার টাকার সোনার চেইন লুটের কথা উল্লেখ করা হয় এজাহারে। তবে মরদেহে অস্ত্রের আঘাতের কথা উল্লেখ নেই।
গতকাল শনিবার (২৪ মে) দুপুরে আলমগীর আলম জানান, ডাকাতরা গাছ ফেলে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ব্যারিকেড দেয়। চালক পেছনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ডাকাতরা পেছন থেকে হামলা চালায়। টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও সোনার চেইন লুটের পর ডাকাতরা মরদেহও নাড়াচারা করে দেখে নিচে কিছু লুকানো আছে কিনা।
তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের যে কাঁচগুলো ভেঙেছে, সেই কাঁচগুলো আমার বাবার মরদেহের ওপরে পড়েছে। ডাকাতরা আমার ভাইকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল- সেই আঘাত মরদেহের ওপর পড়তে পারত, কিন্তু পড়েনি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, ডাকাতিপ্রবণ এলাকাগুলোতে আমাদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলে। সেদিন ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও পুলিশ ওই এলাকায় টহল দিয়ে যায়। তবে যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, তার আশপাশে কোনো জনবসতি নেই। ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে হাওর এলাকায় ঢুকে পড়ায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
ওসি আরও বলেন, মরদেহে অস্ত্র দিয়ে আঘাতের অভিযোগটি সঠিক নয়। আমরা মরদেহে কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাইনি। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক ফাইন্যান্স ক্যারিয়ার বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন দলের নেতারা
শাহবাগে শুরু হয়েছে জুলাই ঐক্যের প্রতিবাদ সমাবেশ
দাবি আদায়ে কাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা