বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানা বিশেষ করে টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক খাতে গ্যাস সরবরাহে খুবই সংকট তৈরি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা পরিস্থিতিতে সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করায় শিল্প উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিল্পোদ্যোক্তা এবং রপ্তানিকারকরা। সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট নিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিসিআই, আসিসি বাংলাদেশ, এলএফএমইএবি, বিটিটিএলএমইএ, বিপিজিএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, এক থেকে দেড় মাস ধরে চলা প্রকট গ্যাস সংকটে দেশের রপ্তানিনির্ভর ও স্থানীয় টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক খাতসহ অনেক খাতের কারখানার উৎপাদন আংশিক অথবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি দেশের টেক্সটাইল খাত দীর্ঘদিন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্রমাগত অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট, ব্যাংক সুদের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, মর্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদশেরে রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক, রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনার অস্বাভাবিক হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কারখানা মালিকরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে পোশাক কারখানাগুলো উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় চলমান কার্যাদেশ অনুযায়ী যথাসময়ে পণ্য সরবরাহের জন্য বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে বিমানপথে অতিরিক্ত খরচে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে পোশাক কারখানাগুলোকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সমস্যা সমাধানে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন শওকত আজিজ রাসেল। এগুলো হলো অবিলম্বে জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্প খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; শিল্প খাত ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা এবং এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিযোগী ও টেকসই মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা প্রণয়ন; এবং শিল্প খাতে বিরাজমান গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
