সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ১২৩ বছরের ইতিহাসের সফলতম কোচ হিসেবে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায় সমাপ্ত করলেন কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে এই ইতালিয়ান কিংবদন্তিকে জানানো হয় হৃদয়স্পর্শী শ্রদ্ধা। আবেগাপ্লুত বিদায় জানানো হয় ক্লাবের কিংবদন্তিখেলোয়াড় লুকা মদ্রিচকেও। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে শেষ ম্যাচেও জয়ের দেখা পেয়েছেন দুজনই। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ২-০ গোলের সহজ জয় পায় গ্যালাকটিকোসরা। এই ম্যাচটাই রিয়ালে আনচেলত্তির ও স্পেনের মাটিতে মদ্রিচের শেষ ম্যাচ হয়ে রইল।
রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে বার্নাব্যুর উত্তর গ্যালারিতে উন্মোচিত হয় একটি বিশাল ব্যানার। তাতে আনচেলত্তির ছবি ঘিরে ছিল বিজয় সূচক লরেল পাতা এবং লেখা ছিল ধন্যবাদ কার্লেত্তো’। আনচেলত্তির হাত ধরেই প্যারিস ছেড়ে মাদ্রিদে এসেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কোচের বিদায়ী ম্যাচটিতে জোড়া গোল করে দেন গুরুদক্ষিণা। এই ব্যতিক্রমী বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে অসংখ্য শিরোপা ও গৌরবময় স্মৃতির সাক্ষী দুই কিংবদন্তিকে সম্মান জানায় ক্লাবটি। ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে যাওয়া ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘আমি খুবই খুশি ও গর্বিত, অসাধারণ একটা সময় কেটেছে। এখানে এই সময়ে যা কিছু ঘটেছে, এর কোনো কিছুই আমরা ভুলে যেতে পারি না। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে, লম্বা সময় ধরে অসাধারণ ক্লাবকে কোচিং করানোর গর্ব নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি। রিয়াল মাদ্রিদ (আমার কাছে) নিজের বাড়ির মতো, একটি পরিবার। ছয় বছর ধরে ব্যাপারটি এমনই ছিল। শিরোপাগুলোর জন্য, এখানকার আবহর জন্য আমাদের সময় কেটেছে অসাধারণ।’
ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার সময় মদ্রিচকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। ১৩ বছরে ২৮টি শিরোপা জেতা মদ্রিচ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই মুহূর্তটা আসুক, আমি কখনো চাইনি। তবে এটা ছিল সুদীর্ঘ, কিন্তু বিস্ময়কর এক অভিযাত্রা। সবার আগে আমি ক্লাব, ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই এখানে পাওয়া সব কোচ ও সতীর্থদের, যারা সবসময় আমাকে সঙ্গ দিয়েছেন এবং সেই সব মানুষদের, যারা আমাকে সাহায্য করেছেন।’
আনচেলত্তির বিদায়ের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাবি আলোনসোকে নিজেদের নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা দেয় রিয়াল। ৪৩ বছর বয়সী এই কোচ একসময় রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে জিতেছেন ছয়টি শিরোপা। স্পেনের পাশাপাশি হয়ে উঠেছিলেন ‘মাদ্রিদিস্তা কিংবদন্তি’। বায়ার লেভারকুজেনের ডাগআউট থেকে অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর তিনি ফিরলেন নিজের প্রাক্তন ক্লাবে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বায়ার লেভারকুজেনের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আলোনসো প্রথম মৌসুমেই দলকে ইউরোপা লিগ সেমিফাইনালে নিয়ে যান এবং লিগে ইউরোপিয়ান স্পট নিশ্চিত করেন। তবে ইতিহাস গড়া হয় ২০২৩-২৪ মৌসুমে। ক্লাব ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপা, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ জেতান। এ সময় টানা ৫১ ম্যাচের অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েন জাবি, যা জার্মান ফুটবলে অনন্য এক নজির।
আলোনসোর কোচিং যাত্রা শুরু হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলের মাধ্যমে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১২ দলকে লিগ শিরোপা এবং ‘তোর্নেও দি কামপিওনেস’ জেতান। এরপর ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রিয়াল সোসিয়েদাদ ‘বি’র কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২১ সালে দলকে দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত করেন। আজ বার্নাব্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। রিয়ালের কোচ হিসেবে প্রথমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখিও হবে জাবি আলোনসো। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে রিয়ালের নতুন ‘জাবি’ যুগ।
