অপরাধজগতে নতুন অস্থিরতা

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

একের পর এক খুনের ঘটনায় অস্থির হয়ে উঠছে চট্টগ্রামের অপরাধজগৎ। আধিপত্য বিস্তার করতে অপরাধীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিজেদের অপরাধ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে জড়াচ্ছে নতুন নতুন অপরাধে। সবশেষ গত শুক্রবার রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় খুন হন ‘সন্ত্রাসী’ ঢাকাইয়া আকবর। এর আগের গত ৭/৮ মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাউজান, হাটহাজারী ও নগরের চান্দগাঁও ও বাকলিয়া থানা এলাকায় ঘটে ৮-৯টি খুনের ঘটনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেষারেষির কারণে।

পুলিশ বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দাপাচ্ছে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের গ্রুপ।

দুই ডজন মামলার আসামি দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী বর্তমানে কারাবন্দি। তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান ওরফে হাসান, মুহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ইমন ও বোরহান আন্ডারওয়ার্ল্ডে এখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। উক্ত পাঁচ জনের মধ্যে নগরের বাকলিয়ায় গত ৩০ মার্চ সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় সম্প্রতি পুলিশের হাতে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ধরা পড়েছেন হাসান। তবে অধরা রয়ে গেছে বাকি চার জন। এ চারজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর মুহাম্মদ রায়হান।

পুলিশের তথ্য বলছে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মুহাম্মদ রায়হান গেল দুই মাসের ব্যবধানে রাউজানে যুবদলকর্মী ইব্রাহিম, নগরের বাকলিয়া একসেস রোডে জোড়া খুন এবং সবশেষ গত শুক্রবার রাতে নগরের পতেঙ্গায় ‘সন্ত্রাসী’ ঢাকাইয়া আকবরকে সরাসরি গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত। এ ছাড়া ছোট সাজ্জাদ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার (১৫ মার্চ) আগে নগরের চান্দগাঁও থানা ও জেলার হাটহাজারী থানা এলাকায় সংঘটিত তিন খুনের ঘটনায় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে রায়হানও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ‘সন্ত্রাসী’ ঢাকাইয়া আকবরসহ এর আগে গত দুই মাসের ব্যবধানে রাউজান ও নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় সংঘটিত পাঁচটি হত্যাকা-ে রায়হান সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় থাকা ছোট সাজ্জাদের আলোচ্য চার সহযোগীকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও তাদের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ।

বিভিন্ন মামলায় ২৭ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ছোট সাজ্জাদের অস্ত্রভা-ার এবং তার সহযোগীদের ছুঁতে পারেনি পুলিশ।

আবার বিদেশে অবস্থান করেই দেশের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছেন অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাদের একজন নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকার বাসিন্দা ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান। জানা গেছে, ঢাকাইয়া আকবরের সঙ্গে এক সময় গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক থাকলেও সাজ্জাদ আলী খানের গ্রুপ থেকে আকবর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই সামনে আসেন বর্তমানে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’। এই ছোট সাজ্জাদ হয়ে ওঠেন বিদেশে পলাতক ক্যাডার সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। কিন্তু বছরখানেক আগে কারাবন্দি অবস্থায় আকবরকে জামিন না করানোয় সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় তাদের। সেই থেকে আকবরের ওপর ক্ষোভ থাকলেও সম্প্রতি ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমীনকে (বর্তমানে কারাবন্দি) নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর কর্মকা-ে তা আরও বেড়ে যায়। পতেঙ্গার সমুদ্র সৈকতে গোলাগুলির নেপথ্যে ছিল সেই দ্বন্দ্ব।

এদিকে ঢাকাইয়া আকবরকে গুলি করার ঘটনায় গত দুদিনেও মামলা হয়নি নগরের পতেঙ্গা থানায়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করলে পুলিশের করণীয় কিছু নেই মন্তব্য করেছেন পতেঙ্গা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। পুলিশের এই কর্মকর্তা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘মামলা না করলে আমরা কীভাবে খুনিদের শনাক্ত করব?’ ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করলে পুলিশের কি কোনো দায়িত্ব নেই? এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো এই প্রতিবেদককে ঘটনাটি সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে সহযোগিতা প্রদানের কথা বলে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত