টার্গেট কিলিং কি না—বাড্ডায় বিএনপি নেতা হত্যায় উঠে আসছে যেসব প্রশ্ন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ১১:১৪ এএম

রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী কামরুল আহসান সাধনকে। গত রবিবার রাত ১০টা ২ মিনিটে ৪ নম্বর রোডের একটি মুদির দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় দুই অজ্ঞাত যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন সাধন। গুলি লাগে তার ঘাড়, কাঁধ, পিঠ, বুকের নিচে ও পেটে। প্রথমে তাকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ হত্যাকাণ্ডকে পুলিশ ‘টার্গেটেড কিলিং’ হিসেবে দেখছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর পেছনে ইন্টারনেট ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ জড়িত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার। তবে মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনার সময় কামরুল আহসান সাধন এলাকার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে এসে দুই যুবক গুলি চালায়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীদের কেউ চিনতে পারেনি। গুলির শব্দে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায়। কিলাররা ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা প্রথমে তাকে অটোরিকশায় করে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

দিলরুবা আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আমার স্বামী পেশায় একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী এবং গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে গুদারাঘাট এলাকার ৪ নম্বর রোডে বসেছিলেন। রাত ১০টা ২ মিনিটে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী সন্ত্রাসীরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ উপস্থিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর কয়েকজন পথচারী তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

‘সাধনের কোনো শত্রু ছিল না’– এলাকাবাসী

স্থানীয়দের মতে, সাধনের বিয়ের বয়স প্রায় ২৫ বছর হলেও তার কোনো সন্তান নেই। স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো। এলাকায় তার কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব ছিল না।

তারা আরও জানান, সাধন বেশ কিছু বছর ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি তার ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করেন। এতে হয়তো কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা বা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

আগের ঘটনার সঙ্গে মিল

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের ২০ মার্চ পুলিশ প্লাজার সামনে সুমন মিয়া ওরফে টেলি সুমন নামে আরেক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে রাতের আঁধারে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার তদন্তেও উঠে আসে ব্রডব্যান্ড ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের কথা। ফলে পুলিশ ধারণা করছে, সাধনের হত্যাকাণ্ডেও একই মোটিভ থাকতে পারে।

তদন্তে নামছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা

ঘটনার পরপরই মাঠে নেমেছে ডিএমপি, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে, তথ্য সংগ্রহ করছে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশের ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের তালিকা ধরে যাচাই করছি। তাদের সঙ্গে নিহতের কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে দুই শুটার যে এলাকাবাসী নয়, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

‘টার্গেটেড কিলিং মনে হচ্ছে’ – ডিএমপি

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টিকে টার্গেটেড কিলিং হিসেবেই বিবেচনা করছি। সাধন ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার সঙ্গে এই ব্যবসা নিয়ে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শুটাররা স্থানীয় নয়, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত। তাদের শনাক্ত করা গেছে। গ্রেপ্তারের পর জানা যাবে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ কী ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত