আতিক মোর্শেদের স্ত্রীকে আজ দুদকে তলব

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার অভিযানকালে আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার আইসিটিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুঁইকে তলব করেছে দুদক। আজ সোমবার তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম।

এদিকে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে নগদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানকালে নগদের আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। দুদক টিমের তথ্যমতে, নগদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অনিয়মের অভিযোগে গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি টিম নগদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দুদক টিম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতার আলোকে অধিকতর তদন্তের জন্য প্রধান উপদেষ্টার আইসিটিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদ ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুঁইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে দুদক। এ ছাড়া ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। রেকর্ডপত্র পাওয়ার পর তার পর্যালোচনা শেষে কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

এর আগেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নগদ-এ অভিযান পরিচালনা করেছিল দুদক। সেই সময় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, পাঁচ হাজারের মতো অবৈধ এজেন্ট কার্যক্রম এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৭০ শতাংশ বিদেশি শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানকালে নগদের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ও পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল দুদক। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত ই-মানি তৈরি করে বিদেশি কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ পাচারেও জড়িত। অভিযানের পর নগদের প্রশাসক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পাচার ও ৬০০ কোটি টাকার ই-মানি-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদক টিম এ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘দোসররা’ ডাক বিভাগকে ব্যবহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে ডিজিটাল অর্থ লেনদেন প্ল্যাটফরম নগদ চালু করে। শুরুতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নাহিম রাজ্জাক, রাজি মোহাম্মদ ফকরুলসহ প্রভাবশালী চক্র এ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। খোকন তার স্ত্রী নূপুরের নামে ৫০০ শেয়ার নিয়েছিলেন। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তখন আইনবহির্ভূতভাবে নগদ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রটি শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছত্রছায়ায় এ ব্যবসা চালিয়ে যায়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা দেশত্যাগের পর নগদের দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফএস) প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ এজেন্ট রয়েছে। এসব এজেন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এজেন্টরা হুন্ডির মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেছে। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতেই নগদে অভিযান চালানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত