বর্তমান বিশ্বে একটি গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়, ফলে সাধারণ সংক্রমণগুলোও জটিল এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার
মূল কারণগুলো
অতিরিক্ত ও ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার : অনেক সময় সাধারণ ঠা-া, সর্দি বা ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করলে রোগী সম্পূর্ণ কোর্স না করে মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করে দেন। নিজের মনমতো বা পুরনো প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ।
পশু খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার: গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এই অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং প্রতিরোধশীলতা তৈরি করে।
অস্বাস্থ্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি : অনেক ক্লিনিকে জীবাণুমুক্ততা বজায় রাখা হয় না। ইঞ্জেকশন, ইনফিউশন বা অস্ত্রোপচারের সময় জীবাণু সংক্রমণ ঘটায়। একই সিরিঞ্জ বা সরঞ্জাম বহুবার ব্যবহার করা হয়।
অপ্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন : অনেক সময় চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় না করেই অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দেন। ডায়াগনস্টিক টেস্ট ছাড়া শুধু রোগের উপসর্গ দেখে ওষুধ দেওয়া হয়।
ওষুধের নিম্নমান : বাজারে অনেক নিম্নমানের বা ভেজাল অ্যান্টিবায়োটিক বিদ্যমান। সঠিক ডোজ ও গুণমান না থাকায় ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস না হয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে।
জনসচেতনতার অভাব :
অ্যান্টিবায়োটিক কীভাবে কাজ করে এবং কেন পুরো কোর্স শেষ করা দরকার। এ বিষয়ে অনেকেই জানেন না। রোগ ভালো লাগলেই ওষুধ বন্ধ করে দেন অনেকে, যা ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
প্রতিরোধের পরিণতি
⮞ সাধারণ সংক্রমণ যেমন মূত্রনালি সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, টিউবারকুলোসিস ইত্যাদি আর সহজে নিরাময়যোগ্য থাকে না।
⮞হাসপাতাল-সম্পর্কিত সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
⮞অস্ত্রোপচার বা ক্যানসারের চিকিৎসার সময় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
⮞ ওষুধের খরচ, হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার সময়কাল অনেক বেড়ে যায়।
⮞ বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণে মারা যাচ্ছে।
প্রতিরোধে করণীয়
সচেতনতা বৃদ্ধি : সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা।
সঠিক ব্যবহারে গুরুত্ব : শুধু ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
পুরো কোর্স সম্পন্ন করা : ডাক্তার যা দিয়েছেন, তা শেষ না করা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।
⮞চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়।
⮞গবাদিপশুতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কড়াকড়ি।
⮞রোগ নির্ণয়ে আধুনিক টেস্টের ব্যবহার।
⮞সরকারি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা প্রণয়ন।
