প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে তার সমর্থকরা গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবন প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিকেলে এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ইশরাক হোসেন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাচ্ছি না। সরকার যদি শপথের ব্যবস্থা না করে, তবে ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসব।’
তিনি বলেন, ‘নগর ভবনে কোনো বহিরাগত প্রশাসক বা উপদেষ্টা প্রবেশ করতে পারবে না। ঈদের সময় নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় এখনকার মতো কর্মসূচি শিথিল করা হয়েছে। তবে সরকার যদি শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা না করে, তাহলে জনগণই তাদের মেয়রকে শপথ পড়িয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘আদালতের রায় এবং গেজেট প্রকাশের পরও সরকার শপথ পড়ানো নিয়ে টালবাহানা করছে। এটি জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন সম্ভব কি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার লিখিতভাবে আবেদন করেও সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। ফলে ঢাকা দক্ষিণের ভোটাররা রাজপথে নেমেছেন।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে শপথের ব্যবস্থা না করলে ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই শপথ নেব এবং নগর ভবনের দায়িত্ব গ্রহণ করব। নগর ভবন কীভাবে চলবে, তা ঢাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেবে।’
এর আগে, ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নগর ভবন প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ডিএসসিসির কর্মচারীরাও অংশ নেন। গত ১৪ মে থেকে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে ইশরাকের সমর্থক ও করপোরেশনের কর্মচারীরা এই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে। তবে ডিএসসিসির একজন বাসিন্দা ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন, যাতে ইশরাককে শপথ না দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। এই আইনি জটিলতার কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় শপথের আয়োজন থেকে বিরত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করে। তারা বলেন, ইশরাককে মেয়র হিসেবে শপথ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
