বৃষ্টির মন্দা কাটিয়ে জমজমাট বেচাকেনা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ০৭:৫০ এএম

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর বাজার জমে উঠেছে। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা মন্দা থাকলেও গত মঙ্গলবার থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে ব্যাপক বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে, চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি, যেখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশুর সংখ্যা ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। ফলে ৩৫ হাজার ৩৮৭টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। সংকট পূরণে পার্শ্ববর্তী জেলা যেমন কক্সবাজার, ফেনী, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচুর পশু চট্টগ্রামে আসছে, ফলে বাজারে সংকটের আশঙ্কা নেই।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে তিনটি স্থায়ী (সাগরিকা বাজার, বিবির হাট, পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার) এবং ১০টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশুর বেচাকেনা চলছে। নুরনগর হাউজিং এস্টেট মাঠ, পতেঙ্গা সাইলো রোড, হালিশহর সিডিএ বালুর মাঠসহ বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে বৃষ্টি থেকে পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের রক্ষায় শামিয়ানা ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী আবুল হাশেম জানান, তিনি ২৭টি গরু নিয়ে এসেছেন, যার দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা। মঙ্গলবার থেকে বেচাকেনা বেড়েছে এবং ঈদের আগের তিন দিনে বাকি গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি নয়, বাজারে প্রচুর গরু থাকায় দাম ধরে রাখার সুযোগ নেই।’

বিবির হাটে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী শফিউল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিবির হাটে যাতায়াত সুবিধাজনক এবং প্রচুর গরু থাকায় পছন্দমতো কেনা যায়। দামও গত বছরের তুলনায় সহনীয়।’ টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মোসলেম আলী জানান, তিনি ১৩টি গরু নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে ছয়টি বিক্রি হয়েছে এবং বাকিগুলো ঈদের আগে বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি, তবে বড় গরুর দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয়।

রাঙ্গামাটির মাইনি বাজারে জমে উঠেছে দেশি জাতের ‘রেড চিটাগাং’ গরুর বেচাকেনা। এই গরু সুন্দর দৈহিক গঠন, সুস্বাদু ও চর্বিমুক্ত মাংস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত। রাঙ্গামাটির জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. তুষার কান্তি চাকমা বলেন, ‘রেড চিটাগাং গরু চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির জন্য বিখ্যাত। এর মাংস কমপ্যাক্ট ও সুস্বাদু, যা ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে।’

ইনি বাজারের খামারি আলমগীর হোসেন জানান, তিনি ১৪টি গরু প্রস্তুত করেছিলেন, যার মধ্যে ১২টি বিক্রি হয়েছে। এই গরুগুলো ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক ঘাস ও গমের ভুষি খাওয়ানোর কারণে এই গরুর মাংসে চর্বি কম এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’

রাঙ্গামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনালের ইজারাদার দিদারুল আলম জানান, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ১৫-২০টি ট্রাকে গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত