পশ্চিমা ‘ভাড়াটে যোদ্ধারা’ ভারতের মাটি ব্যবহার করে মিয়ানমারে ঢুকছেÑমিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা গতকাল মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমন দাবি করেন। ভারতীয় পুলিশের প্রাক্তন এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের হাতে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ যোদ্ধারা মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারের চিন প্রদেশে প্রবেশ করছে। তারা সেখানে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যারা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
তিনি বলেন, গত বছর জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দুই হাজার পশ্চিমা দর্শনার্থী মিজোরামে এসেছেন, কিন্তু আইজলের রাস্তাঘাটে বিদেশি পর্যটক তেমন চোখে পড়ে না।
হিন্দু পত্রিকার খবরে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আশঙ্কার পর গত ২১ এপ্রিল মিজোরামের লেংপুই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)। এর আগে, ১৭ ডিসেম্বর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজোরাম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডকে নতুন করে ‘প্রটেক্টেড এরিয়া রেজিম’ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল এসব এলাকায় বিদেশিদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি করা। মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বিধানসভায় নিজের দাবির সমর্থনে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত ১৯ জুন বিস্ফোরকসহ এক ব্রিটিশ নাগরিক মিজোরামের বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পূর্বঘোষণাবিহীন আইজল সফর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তবে, চিন প্রদেশের বিদ্রোহীদের সমর্থনকারী লালদুহোমা কেন এমন তথ্য প্রকাশ করলেন, তা বিশ্লেষকদের কাছে রহস্য। কেউ কেউ মনে করেন, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব কথা বলেছেন।
লালদুহোমার এই ‘বিস্ফোরক’ দাবির পর ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম তদন্ত শুরু করে। এর মধ্যে টাইমস অব ইন্ডিয়া ৬ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল, ‘মিজোরাম যেভাবে ভাড়াটে সৈনিকদের মিয়ানমারে প্রবেশের গেটওয়ে হয়ে উঠেছে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের চিন প্রদেশের বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছে, তারা মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিদেশিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি জোরদার করেছে।
এর মধ্যেও গত মাসের শুরুতে মিজোরামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই মার্কিন নাগরিক আটক হন। তাদের আইজলের লেংপুই বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভারতীয় গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন, চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট গঠনের সময় এ দুজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মিজোরামের সঙ্গে মিয়ানমারের প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এই সীমান্ত এলাকাগুলোতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
