সিটি গভর্নমেন্টেই ত্বরান্বিত হবে উন্নয়ন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ০২:৩১ পিএম

প্লেটোর রিপাবলিক বেশ সুন্দরভাবে উল্লেখ করেছে যে, ‘যে কোনো শহর, যত ছোটই হোক না কেন, তা আসলে দুটি ভাগে বিভক্ত  দরিদ্রদের শহর, ধনীদের শহর। আর এই শহরটিতে যেন দুপক্ষই একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।’ পৃথিবীর বিকশিত ও সফল শহরগুলো ধনী এবং দরিদ্র উভয়কে আমন্ত্রণ জানায়। নগরের দারিদ্র্য বা বৈষম্য কোনো শহরের ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, শহরগুলো কি দরিদ্র মানুষকে মধ্যবিত্তে পরিণত করছে নাকি দরিদ্ররা চিরস্থায়ী বঞ্চনার পকেটে আটকা পড়ে যাচ্ছে? আজকাল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রশ্ন যখন উঠছে, তখন শহরগুলোর পৌর ব্যবস্থাকে উন্নীত করে শহর সরকার বা সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে। এতে করে শহরের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নানা উন্নয়ন কর্মকা-ে শহরগুলোকে মন্ত্রণালয়মুখী না করে, তাদের স্থানীয় সমস্যা সমাধানমুখী করা যায়। আজ পৃথিবী জুড়েই নগর সরকারের গুরুত্ব বেড়ে চলেছে। পৃথিবীর অনেক শহর এদিক থেকে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। পৃথিবীর কোন শহরটি সুশাসনের দিক থেকে ‘সেরা’ তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।  কেননা এখানে নানা মানদণ্ড এবং র‌্যাংকিং-এর বিষয় জড়িত রয়েছে। স্বৈরাচার প্রেসিডেন্ট এরশাদ যে ঢাকাকে ‘তিলোত্তমা’ শহর করতে চেয়েছিলেন, তা যে পতিত সরকারের সময় খুব বেশি দূর যেতে পারেনি, তা আমরা সবাই দেখেছি। তাদের দুর্নীতির আখড়া ছিল নানা মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে জনমানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও হ্রাস করছে শহরের মেট্রোরেল ব্যবস্থা। বিশ্ব জুড়ে নগর শাসন এবং জীবনযাত্রার নানা মান বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি শহরকে ‘বেশ ভালো শহর’ বলা যায়। একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক এবং সিঙ্গাপুরকে প্রায়শই শীর্ষস্থানীয় পারফরমিং শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমস্টারডাম, ভিয়েনা ও টোকিওসহ আরও কিছু শহর তাদের উত্তম শাসনের জন্য স্বীকৃত।

জনসংখ্যা বিবেচনায় নিলে লন্ডনে বাস করেন প্রায় ৯০ লাখ মানুষ আর নিউ ইয়র্কে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ। সে হিসাবে গ্রেটার ঢাকা মেট্রোপলিটান এলাকায় বাস করেন ২ কোটিরও বেশি মানুষ। আর শুধুমাত্র মেট্রোপলিটান ঢাকায় থাকছেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিলে শহরটি বিশ্বের মধ্যে তলানিতে পড়ে রয়েছে!

ঢাকা শহরের কার্য বিধিমালা : ঢাকা উত্তর শহর করপোরেশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী তাদের কর্ম পরিসর হলো: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা, জলাবদ্ধতা নিরসন করা, আবর্জনা অপসারণ ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা, কঠিন বর্জ্য ও হাসপাতালের বর্জ্য সঠিক উপায়ে অপসারণ করা, রাস্তাঘাট ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, সড়কগুলোতে বৈদ্যুতিক লাইট স্থাপন করা, গাড়ি পার্কিং-এর ব্যবস্থা করা, পার্ক ও খোলা জায়গা রক্ষণাবেক্ষণ করা, কবরস্থান ও শ্মশান রক্ষণাবেক্ষণ করা, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদপত্র তৈরি করা, ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণ করা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও টিকা দেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করা, হোল্ডিং নম্বর প্রদান ও এর কর আদায় করা ইত্যাদি। তবে, এই শহরটি এখন একটি অসুস্থ শহরে পরিণত হয়েছে। জাপানের রাজধানী টোকিওর United Nations University’র এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, ঢাকা একটি অসুস্থ শহর। নগরের বস্তি এলাকাতে ৫ বছরের কম শিশুর মৃত্যুহার বাংলাদেশের গ্রামের একই বয়সের শিশুর মৃত্যুহারের দ্বিগুণ। আর, বায়ুদূষণ দিন দিন খারাপই হচ্ছে। একটি ভালো মানের শহরের জন্য যা দরকার  পৃথিবীর উন্নত শহরগুলোর নিরিখে  তা হলো, পরিবহন; ৫০০ মিটারের কম দূরত্বে (হুইল চেয়ারের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত পাকা ফুটপাত থাকতে হবে) বাস, ট্রেন বা ট্রাম স্টপে যেতে পারা। এছাড়া, খাবার এবং পণ্য পাওয়া যেতে হবে ৫০০ মিটারের কম দূরত্বে। যে কোনো আবাসিক এলাকা থেকে সবুজ স্থান বা পার্ক থাকবে ৫০০ মিটারের কম দূরত্বে। বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধা পেতে গণপরিবহনের মাধ্যমে ৩০ মিনিটেরও কম দূরত্বে যাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ হাঁটা এবং সাইকেল চালানোর পথ থাকবে।

আবাসন : বসবাসের জন্য উপযুক্ত, পরিবেশগত নীতি ব্যবহার করে নির্মিত বা অভিযোজিত আবাসন, যেখানে বাইরের এবং অভ্যন্তরীণ বায়ুর মান ভালো থাকবে। সামাজিক সংহতির দিক থেকে, আশপাশের সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সহনশীল এবং সব সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ থাকতে হবে।

সিটি করপোরেশনের মধ্যে তুলনা : নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দেশীয় ও বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট উন্নয়ন ব্যয়ের বাজেট ছিল ২০২৩-২৪ সালে প্রায় ২,৩৮৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রকৃত ব্যয় বা সংশোধিত বাজেটে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার। আর, ২০২৪-২৫ সালের মোট উন্নয়ন ব্যয়ের বাজেট ছিল প্রায় ২,৩৯৯ কোটি টাকা। এদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর সিটি করপোরেশন চরম অবহেলায় পড়ে আছে। একটি শীর্ষ বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের সব সিটি করপোরেশনে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। ওই বছর রংপুর সিটি পেয়েছিল মাত্র ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও মোট বরাদ্দ প্রায় একই রকম ছিল। ওই বছরে রংপুর সিটি পেয়েছিল ২০ কোটি টাকা। পরবর্তী বছরে বাজেটে ১২টি সিটি করপোরেশনের টাকা বরাদ্দের পরিমাণ ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। রংপুরের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২-এর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার ২৪.৮ শতাংশ, যেখানে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা একনেক সভার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলের জন্য তেমন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প থাকে না। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার ১ শতাংশের কম পাওয়ারও অভিজ্ঞতা আছে রংপুরের। যেমন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মেগা প্রকল্প বাদ দিয়ে রংপুরের জন্য বরাদ্দ ছিল দশমিক ৯৮ শতাংশ! রংপুরে যেহেতু কোনো মেগা প্রকল্প নেই, তাই ওই খাতে কোনো বরাদ্দ নেই। করোনাকালে সরকার প্রতি গরিব মানুষের জন্য যে বরাদ্দ দিয়েছিল, সেখানেও সবচেয়ে কম বরাদ্দ ছিল রংপুরে। রংপুর একমাত্র বিভাগ, যেখানে অনুমোদিত অর্থনৈতিক অঞ্চলও চালু হয়নি। এদিকে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রংপুরের বরাদ্দ শোচনীয়। যেমন শিক্ষা খাতে ২০২৩-২৪ সালে বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত বাজেটে তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৮০ কোটি টাকায়। পরের বছর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে তাদের বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ৬.২৭ কোটি টাকা! স্বাস্থ্য খাতে ২০২৩-২৪ সালে বাজেট ছিল ১ কোটি ১০ লাখ টাকা যা সংশোধিত বাজেটে কমে গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র ২৭.৭০ লাখ টাকায় আর ২০২৪-২৫ সালের বাজেটে বরাদ্দ করা হয় মাত্র ৯.৫০ লাখ টাকা! উপজেলা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। উদ্দেশ্য ছিল নানামুখী। সব ধরনের কাজের জন্য আগে গ্রামের মানুষকে হয় ঢাকায় আসতে হতো না হয় যেতে হতো বিভাগীয় শহরে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে লোকজনের ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে যেতে নাকাল হতে হতো। দেশের সুশীল সমাজ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিল জেলা ও উপজেলা শহরকে নানাদিক থেকে শক্তিশালী করা। পরে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। কিন্তু সেগুলো ফান্ড ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। অন্যান্য দেশে সিটি করপোরেশন বা সিটি গভর্নমেন্ট নিজেরা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অর্থায়ন করে থাকে। 

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কী হয় : ভারতীয় সিটি করপোরেশন ও সিটি গভর্নমেন্টগুলো সেখানকার পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। সিটি করপোরেশনগুলো বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে যেমন, ইক্যুইটি (স্টক), বন্ড এবং অন্যান্য ঋণ উপকরণ ইস্যু করার মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে। পুঁজিবাজার থেকে ৯টি পৌর করপোরেশন ১৯৯২ সালে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৬১৮ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছিল, যা ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপি। পৌর করপোরেশন কর্র্তৃক ইস্যু করা বন্ডগুলোর বেশির ভাগই রাজ্য সরকার বা ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই জারি করা হয়েছে। সাধারণভাবে, অবকাঠামো খাতে ঋণদাতারা নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে সার্বভৌম গ্যারান্টি চেয়ে থাকেন। কিন্তু ভারতে পৌর সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব ঋণের স্থিতি এবং নগদ প্রবাহ সাবলীল রাখার কারণে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, ভারতে অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সম্পদ সংগ্রহের একটি উপায় হতে পেরেছে পৌর বন্ড। জনগণের মধ্যে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা থাকলে একটি পৌর সংস্থা পুঁজি বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে! ভারতে তিন ধরনের পৌর বন্ড রয়েছে: সাধারণ বন্ড যা কিনা একটি পৌর সংস্থার কর রাজস্ব দ্বারা সমর্থিত, রাজস্ব বন্ড যা নির্দিষ্ট রাজস্ব দ্বারা সুরক্ষিত, যেমন, টোল, পানির বিল ইত্যাদি। আর রয়েছে সবুজ পৌর বন্ড  এটি বিশেষত জলবায়ু বা পরিবেশের টেকসই প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সিটি করপোরেশনের করণীয় : প্রথমত সিটি করপোরেশনগুলোকে সিটি গভর্নমেন্টে উন্নীত করতে হবে। তারা যাতে নিজেরা আর্থিক দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে, সেদিকে সরকার ও বিশেষজ্ঞরা বিশেষ মনোযোগ দেবেন। বাংলাদেশে এখন ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এগুলো নিজেরাই নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকা- সম্পাদন করে থাকে। কিছু কিছু খাতে তাদের আয়  যেমন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, সম্পদ কর, পানির বিল, হাটবাজার-ঘাট ইজারা ইত্যাদি খাতে তাদের রোজগার নিয়মিত ও দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এই আয়কে সম্বল (মর্টগেজ) করে তারা পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে। শহরগুলোতে চালু করতে হবে নীতি-নৈতিকতা কমিটি। এই কমিটিতে থাকবেন শহরের গণ্যমান্য ও সৎ ব্যক্তিবর্গ। এরা করপোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য খাতের ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের কর্মকা- পর্যালোচনা করবেন। উন্নয়ন ব্যয়, বিশেষত জলবায়ুর উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় শহরগুলো গ্রিন বন্ড থেকে জলবায়ু মোকাবিলা প্রকল্প নিতে পারে। দেশের সব জেলাকে সিটি গভর্নমেন্ট ঘোষণা করতে হবে। যে কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও জোর দিতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের নগর নিয়ে একটি গবেষণা v (Cities in the Developing World by Gharad Bryan of London School of Economics, Edward Glaeser of Harvard University and Nick Tsivanidis of University of California, Berkely) বলছে, নগরে নানা ধারণার প্রসার ঘটে এবং সেগুলো যেন নানা সেবা বিক্রয়ের বাজারে পরিণত হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে নগরগুলোতে নানা ব্যাকটেরিয়া-জাত ব্যাধির সংক্রমণও ঘটে চলেছে আর রয়েছে যানজটের কষ্ট। উন্নয়নশীল বিশ্বে নগরের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ের চেয়ে নগরায়ণের প্রসার ঘটেছে অনেক দ্রুত। ফলস্বরূপ, বিশাল উন্নয়নশীল বিশ্বের শহরগুলোতে ঘনবসতি-জনিত অসুবিধা মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে সংক্রামক রোগ, অপরাধ এবং যানজট, যা কিনা সীমিত সম্পদ দিয়ে মোকাবিলা করতে হয়। তাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে ভালো ভালো প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। শহরের যেকোনো প্রকল্পের অর্থছাড়, অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ ও কাজের অগ্রগতি একটি অ্যাপসের মাধ্যমে নাগরিকদের জানানো যেতে পারে। এখন যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে ভুক্তভোগীরা শহরের রাস্তা কাটাকাটি, পানিজনিত সমস্যা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একরকম অন্ধকারেই থাকেন। এ ধরনের অ্যাপ চালুর মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও দায়বব্ধ করা যেতে পারে।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও কলাম লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত