আসামি ছাড়িয়ে নিতে থানা ঘেরাও

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ০৬:৫৭ এএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাংস চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং তার বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ৭জনকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ভুক্তভোগী রিনা খাতুন।

ওই মামলায় গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে মির্জাপুর থেকে ৩ নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর আসামিদের ছিনিয়ে নিতে বেলা ১১টা থেকে থানা ঘেরাও করে রাখেন শতাধিক গ্রামবাসী। একপর্যায়ে থানা চত্বরে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে আসামিদের আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। আসামিরা হলেনÑ মির্জাপুর গ্রামের রিপনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন, মোমিনের স্ত্রী পারভিন খাতুন ও বক্করের স্ত্রী লিপি খাতুন।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, থানা চত্বরে আসামি ছিনিয়ে নিতে আসা জনতার ভিড়। পুলিশ আসামিদের গাড়িতে তুলছে। আর জনগণ আসামি নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় মির্জাপুর গ্রামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রিপন বলেন, ‘ওই নারী আমার বাড়ি থেকে ৪১ হাজার টাকা ও মাংস চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। আর পুলিশ আমার স্ত্রীসহ তিনজনকে ধরে এনেছে। আমরা চোরের শাস্তি এবং আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার বিকেলে প্রতিবেশী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রিপনের ঘরে ঢুকে ফ্রিজ থেকে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রিনা খাতুনকে বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তার স্বামী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রাত ৮টার দিকে রিনাদের বাড়িতে ভাঙচুর করে তাকে ধরে ফের রিপনের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেন। রাত ১০টার দিকে সালিশে দুটি গরু, একটি ছাগল ও স্বর্ণালংকারের বিনিময়ে রিনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী রিনা খাতুন বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে চুরির নাটক সাজিয়ে আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন গ্রামের লোকজন। আমি বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি। কিন্তু মামলা তোলার জন্য সবাই নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুর রশিদ বলেন, শারীরিক নির্যাতন, চুল কর্তন, ভাঙচুর-লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগে এক নারী মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থানা ঘেরাও করার ঘটনা স্বীকার করে কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলাইমান শেখ বলেন, আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় গ্রামের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত