বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক কিছু মানুষের মনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এ বৈঠক নিয়ে কেন এত অস্বস্তি? এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে?
গতকাল শনিবার বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুল হান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু তাহের মুসল্লী, এমদাদুল হক মুসল্লী প্রমুখ।
রিজভী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্র চলছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং বিএনপির দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের সংগ্রামের ফলে ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রমজান মাসে কীভাবে নির্বাচনী প্রচারণা সম্ভব? ফেব্রুয়ারি-মার্চের পর রমজান ও ঈদের আয়োজন থাকবে। এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে প্রচারণা, নমিনেশন পেপার জমা, আইনি প্রক্রিয়া এসব কীভাবে সম্ভব? রোজা রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো কঠিন। তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা উচিত, যখন কোনো ধর্মীয় উৎসব বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকবে না। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক, হালকা শীত থাকে, যা নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত।
একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কেউ কেউ লন্ডনের বৈঠক নিয়ে নিরপেক্ষতা নষ্ট হওয়ার কথা বলছেন। তাদের ইতিহাস কী? তারা কখনো নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছেন? ১৯৭১ সালে তারা জনগণের বিরোধিতা করেছেন, ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে নির্বাচন করেছেন, ১৯৯৫ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এখন তারা বলছেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেবেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবেন। তাদের রাজনীতির ধরন কী?
