ইরানি হামলায় ইসরায়েলে নিহত ৯, আহত শতাধিক

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫, ০৮:৪৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে ইরান ও ইসরায়েলের সরাসরি পাল্টা হামলায়। তেহরান জানায়, ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। 

অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো বলছে, এসব হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতের দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি সম্প্রচারে তেলআবিবের আকাশে বিস্ফোরণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়। সেখান থেকেই জানা যায়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিস্তৃত ড্রোন হামলা’ চালিয়েছে ইরান।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানায়, তারা তেহরানে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হেনেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান দপ্তর ও ডিফেন্সিভ ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সংস্থা, যেগুলো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বলে আইডিএফের দাবি। তাদের মতে, এসব স্থাপনাই ইরান তার গোপন পরমাণু নথিপত্র লুকিয়ে রাখার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইরানের হামলায় সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে বাট ইয়াম শহরে, যেখানে একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তিনজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। ইসরায়েলের জরুরি সহায়তাকারী সংস্থাগুলো এই তথ্য দিয়েছে, যদিও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় আরেকটি হামলায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এছাড়া তেলআবিবের উপকণ্ঠে এক নারী নিহত হয়েছেন এবং ওই অঞ্চলেই আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। একইসঙ্গে, জুডিয়ান ফুঠহিলস এলাকায় আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) সংস্থার এক মুখপাত্র।

হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সময়ের জন্য মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হলেও পরে আইডিএফ জানায়, এসব এলাকার বাসিন্দারা এখন আশ্রয় ত্যাগ করতে পারবেন। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

তেহরান থেকে এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামো তাদের টার্গেটে ছিল। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, ইসরায়েল হামলা চালিয়ে গেলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে আরও তীব্র ও বিস্তৃত।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে হামলার সময় তারা ইসরায়েলের ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১০টি ড্রোন এবং বহু সংখ্যক মাইক্রো ইউএভি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত