বৃষ্টিই ভাসিয়ে নিয়েছে জয়ের স্বপ্ন

আপডেট : ২২ জুন ২০২৫, ০৩:৩৮ এএম

গল টেস্টে জয়ের লক্ষ্যেই নাকি পঞ্চম দিনের সকালে ব্যাট করতে নেমেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ায় জয়ের চিন্তা থেকে সরে আসে বাংলাদেশ, ড্র হওয়া গল টেস্টের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে যে বা যারা কথা বলতে আসেন, তাদের বেশিরভাগই যে কেবল দায়সারা গোছের কিছু মুখস্থ বুলি মাইক্রোফোনের সামনে উগরে দিয়ে যান, সেটা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে কাজ করা নবীনতম কর্মীটিও জানেন। বক্তা বদলালেও বক্তৃতা বদলায় না। বছরের পর বছর ধরেই তারা হার থেকে ইতিবাচকতা, ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা পরের ম্যাচে কিংবা সিরিজে কাজে লাগানোর কথা বলে আসছেন। লিটন দাস ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৪৭ রানে গুটিয়ে গিয়ে ফলো অনে পড়ার পর বলেছিলেন বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০০ রানও করতে পারে, কেউ ২০০ রানের ইনিংসও খেলতে পারে। আরব আমিরাতের কাছে সিরিজ হারের পরও পাকিস্তানে গিয়ে বলেছেন বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোনো দলকেই হারিয়ে দিতে পারে। তাই এসব যে কথার কথা, সেটা বুঝে নিতে কারোই সমস্যা হয় না। শান্ত মুখে অবশ্য বলেছেন, ‘আসলে উইকেটটা পঞ্চম দিনে আমরা যে রকম প্রত্যাশা করছিলাম, সে রকম হয়নি। এমনকি চতুর্থ দিনেও খুব আরামেই ব্যাটিং করা যাচ্ছিল। তাই আমরা এমন একটা অবস্থায় যেতে চাচ্ছিলাম, যেখান থেকে আসলে ম্যাচটা হারার সম্ভাবনা কম আর জেতার সম্ভাবনাটাই বেশি হয়। তবে মাঝখানে বৃষ্টি এসে পরিকল্পনাটা একটু পরিবর্তন করে দিয়েছে আমাদের। তবে আমার মনে হয় সার্বিকভাবে এই ম্যাচটায় আমাদের জেতার জন্যই সবসময় চিন্তা ছিল। আপনি বললেন সকাল থেকেই আরেকটু আক্রমণাত্মক খেলা যেত কি না, আমরা ঐ অবস্থায় আসলে তখনো পর্যন্ত ছিলাম না; দেখতে চেয়েছিলাম উইকেট কেমন আচরণ করে। ঐ একটা ঘণ্টা আমরা আসলে একটু সময় নিয়েছি, আসলে সময় নিয়েছি বলব না কারণ এরপরও আমরা গড়ে ওভারে ৩ করে রান নিচ্ছিলাম। ১৭-১৮ ওভারে আমরা ৬০-এর মতো রান নিয়েছি। আমরা যদি পুরো প্রথম সেশন (লাঞ্চ পর্যন্ত) ব্যাটিং করতাম তাহলে পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতো। অন্তত ৬০-৭০ ওভার ওদের বল করতে পারলে আমার মনে হয় একটা ভালো সুযোগ তৈরি হতো। আমি এই নিয়ে একদমই চিন্তিত না কারণ যতক্ষণ আমরা বোলিং করেছি, ৪টা উইকেট নিতে পেরেছি। খুশি এই কারণে।’ তবে মাঠে শান্ত ও মুশফিক যেভাবে ব্যাট করেছেন, তাতে ১৯ ওভারে ৬০ রান অর্থাৎ ৩.১৫ গড়ে রান নিয়েছেন তাতে করে লিড বড় হওয়ার চেয়ে সময়ক্ষেপণই হয়েছে বেশি।

নিজের সমালোচনা নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘সমালোচনা কথাবার্তা এসব থাকবেই। খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিদিন কীভাবে আমি দলের জন্য অবদান রাখতে পারি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার ওয়ার্ক এথিকস ঠিক আছে কি না, আমার ইন্টেনশনটা ঠিক আছে কি না, আমি কতটা কষ্ট করছি এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে, চেষ্টা করেছি এবং দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি, করতে পেরে ভালো লাগছে।’

শান্তর কাছ থেকে জানা গেল তার ডেপুটিও সেরে উঠেছেন, ‘মিরাজ (মেহেদী হাসান) এখন সুস্থ আছে পুরোপুরি, আশা করছি যে পরের ম্যাচেই ও খেলবে।’ প্রথম ইনিংসে পেসারদের কাছ থেকে আরেকটু ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করেছিলেন পেস বোলিং কোচ শন টেইট, একই কথা বলেছেন শান্তও, ‘প্রথম ইনিংসে পেসাররা যদি আরেকটু ভালো বোলিং করত তাহলে আমরা আরেকটু বেটার বোলিং করতে পারতাম, তবে কন্ডিশনটা তাদের পক্ষে ছিল না।’

গল টেস্টে হতাশাজনক ব্যাটিং করা এনামুল হক বিজয় সম্পর্কে অধিনায়কের মূল্যায়ন, ‘সে অনেকদিন পর দলে এসেছে, দুটো টেস্ট খেলল টানা। আমার মনে হয় তাকে আরেকটু সময় দিয়ে তার ওপর যদি সবাই আস্থা রাখে তাহলে সে ভালো করবে। আমার তার ওপর সেই বিশ্বাসটা আছে এবং আমার মনে হয় সে ভালো কিছুই করবে। আমি তার লাস্ট ৩-৪টা ইনিংস নিয়ে একদমই চিন্তিত নই।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, এসবের প্রভাব নিয়ে শান্ত বললেন, ‘খেলোয়াড়দের এই জিনিসটা হ্যান্ডেল করা ইম্পর্ট্যান্ট। পাশাপাশি যারা কন্টেন্ট টন্টেন্ট বানায় ঐ জায়গাটায় আরেকটু শুদ্ধতা থাকলে ভালো। আমি কী বলছি এটা যদি সুন্দরভাবে হয় সম্মানের সঙ্গে হয়, আমি বলছি না যে সমালোচনা হবে না তবে সেটা সম্মানের সঙ্গে হলে ভালো।’

দুর্গ শহর গল ছেড়ে বাংলাদেশের পরের গন্তব্য রাজধানী কলম্বো। গল থেকে ৩টা সেঞ্চুরি, ৪টা পয়েন্ট আর একটা ফাইফারের সঙ্গে কিছুটা আত্মবিশ্বাসও নিঃসন্দেহে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত