ছাদ-বাগান কিছুই নেই, তারাও পেলেন ‘ছাদ বাগান প্রশিক্ষণ’

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ০৫:৩৯ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে হাতে কলমে দিনব্যাপী ছাদ বাগান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালার পূর্বে সোনাগাজী উপজেলা কৃষি অফিসারের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে যাদের ছাদ বাগান রয়েছে তাদের ছাদ বাগানের তিনটি ছবিসহ প্রশিক্ষণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানান। সেই পোস্টে যাদের ছাদ বাগান নেই তাদের উক্ত পোস্টটি এড়িয়ে গিয়ে যাদের তুলনামূলক বড় ছাদ বাগান আছে তাদের নাম প্রস্তাব করারও আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে এমন আহ্বান জানালেও বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। গত ২৫ ও ২৬ জুন (বুধ-বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত ছাদ বাগান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দুই ধাপে মোট ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের অধিকাংশের ছাদ বাগান নেই। এছাড়াও বেশ কয়েক জনের বাগান থাকা তো দূরের কথা ছাদও নেই। অথচ তারাও অংশগ্রহণ করেছেন ছাদ বাগান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায়।

ছাদ ও বাগান না থাকার পরও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, কৃষি অফিসের লোকদের সঙ্গে সু-সম্পর্কের কারণে তারা নিজেরাই প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যাদের ছাদ ও বাগান নেই তারা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এটা জানলে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতেন না বলেও জানান তারা।

ছাদ বাগান ও ছাদ না থাকার পরও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ছবি দিয়ে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিজানুর রহমান নামে একজন বলেন, এরকম অনেক প্রকল্প আছে, যেটার মাধ্যমে কৃষকের কোনো কল্যাণ নেই। শুধু শুধু রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করা। সামান্য কিছু মুখরোচক কথাবার্তা দায়সারা বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে চলে যাওয়া। বাস্তবে এগুলো নিয়ে কেউ চর্চা ও করেনা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও বছরে একবার এসব কর্মশালা পালনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকে।

আব্দুর রাজ্জাক নামে একজন বলেন, কৃষি অফিসের লোকজন নির্দিষ্ট কিছু লোক ছাড়া কারো সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না, কৃষকদের এড়িয়ে যায়। যারা কৃষক নয় সম্পর্কের কারণে তাদেরকে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ করেন দেন। বীজ, সার, গাছসহ বিভিন্ন প্রণোদনাও তাদেরকেই দেন। প্রকৃত কৃষকদের এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন।

ওয়াহিদ উল্যাহ নামে একজন বলেন, সোনাগাজীর কৃষি কর্মকর্তারা কৃষি কার্ড বিতরণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে। কৃষি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে আমাদের কৃষকেরা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি অফিসার মাইন উদ্দিন আহমেদ নিজেদের পছন্দে লোকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ছাদ ও বাগান না থাকা ব্যক্তিরাও ছাদ বাগান বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে বলেন, যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে তারা পরবর্তীতে বাগান করতে উৎসাহিত হবেন। যাদের ছাদ বাগান রয়েছে শুধু তাদেরকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে জানিয়ে তার ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি তাহলে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা এমন প্রশ্ন তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত