কভিড টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাভা হেলথের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার।
সোমবার (৩০ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক ইব্রাহিম খলিল মামলার শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রাভা হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সিমিন এম. আকতার, সিনিয়র পরিচালক ডা. জাহিদ হোসেইন, এবং জুনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার রেজোয়ান আল রিমন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘কোভিড টেস্টের ভুল রিপোর্ট দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে এই মামলা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধেই সমন জারি করেছেন।’
মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘অনলাইনে প্রাভা হেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখে ২০ মার্চ সেখানে করোনা টেস্ট করাই। পরদিন ২১ মার্চ তারা আমাকে জানায় আমার করোনা পজিটিভ। কিন্তু আমাদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে আমরা আবার করোনা টেস্ট করাই। ঢাকার পরবর্তীতে এ এম জেড হাসপাতালে টেস্ট করলে রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে। এরপর দিন গিয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি হই। আমার হার্টে দুটি রিং পরানো হয়।’
বাদী আবদুস সাত্তার আরও বলেন, ‘আমি হাসপাতালে (ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন) ভর্তির একদিন পর প্রভা হেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আমাকে ফোন করে বললো, ‘আপনার রিপোর্ট পজিটিভ হয়েছে। এখন আমাদের একটা প্যাকেজ আছে এক লাখ টাকার; আপনি ভর্তি হবেন কিনা। তখন আমি তাদের বললাম যে আমার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল, আমার রিংও পরানো শেষ। কিন্তু আপনারা প্রতারণা করে ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন। আমি আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। পরে তারা ভুল স্বীকারও করে নেয়। আমি তাদেরকে একটা লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। ডাক্তার সাবরিনার মতো ভুয়া রিপোর্ট বানিয়ে প্যাকেজের আওতায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করে মানুষদের ঠকিয়েছে। তারা কেবল আমাকেই এমন ঠকিয়েছে তা কিন্তু নয়। আরও অসংখ্য মানুষের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছে। এতদিন প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় ছিল। তাই কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এ কারণে আজ (সোমবার) মামলা করলাম। আদালত তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।’
