কলম্বোয় আজ ব্যাটিং করতে নামলে কি ফের আতঙ্ক গ্রাস করবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের? উইকেটের পতন হলেই কি খেলোয়াড়দের মনের জানালায় ফিরে ফিরে আসবে আগের ম্যাচে ৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর দুঃসহ স্মৃতি? বুধবারের সেই ভয়কে কি আজ জয় করতে পারবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল?
একটা কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন ‘ভয়ের পরেই জয়’। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্যও এই বাক্যটা দারুণভাবে প্রযোজ্য। প্রথম ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি করে দলকে ভালো একটা শুরু এনে দেওয়া তানজিদ হাসান তামিমও বলছেন সেই কথা, ‘আমি আর শান্ত ভাই অনেক ভালো একটা জুটি গড়েছিলাম। সেদিক থেকে বলব আমরা খানিকটা দুর্ভাগা কারণ ওই রান আউটটা। অনেক ভালো ক্যাচ ধরেছে এবং ভালো একটা রান আউটও করেছে তারা। আমার কাছে মনে হয় এটা অনেক বড় টার্নিং পয়েন্ট। কারণ ওখান থেকে যদি আমরা একটা ৩০-৪০ রানের জুটি করতে পারতাম দুজনে মিলে তাহলে মনে হয় ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও সহজ হয়ে যেত।’ ৬১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম, নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৭১ বলে ৭১ রানের একটা জুটিও হয়েছিল। এরপর শান্তর রান আউট আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে জানিথ লিয়ানাগের দুর্দান্ত ক্যাচে তামিমও বিদায় নিলে যে ভাঙন শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে, জাকের আলী অনিকের ব্যাটে খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগে চোখের পলকেই নেই ৭ উইকেট। তামিম তাই নিজের ইনিংসটাকে ভালো বলতে নারাজ, ‘আমার কাছে মনে হয় না আমি ভালো খেলেছি। কারণ দলের যখন যেটা দরকার ছিল আমি সেটা পূরণ করতে পারিনি। সেদিক থেকে বলব যদি সেটা পূরণ করতে পারতাম তাহলে হয়তো-বা বলতে পারতাম হ্যাঁ, আমি ভালো খেলেছি দলের জন্য খেলতে পেরেছি।’ সিরিজে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নেই তামিমের, দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটাই প্রধান লক্ষ্য, ‘ব্যক্তিগত লক্ষ্য যেটা বলব আমার সবসময় চেষ্টা থাকে ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার এবং প্রতি ম্যাচে দলের জন্য ভালো কিছু অবদান রাখা। দলের যেটা প্রয়োজন যেটা আমি গত ম্যাচে পূরণ করতে পারিনি, চেষ্টা থাকবে দলের যা প্রয়োজন পরের ম্যাচে যেন পুষিয়ে দিতে পারি।’
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের অন্যতম কারিগর হাসারাঙ্গা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সবসময়ই উজ্জ্বল এই লেগস্পিনার। তামিম জানিয়েছেন, হাসারাঙ্গাকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ, ‘আমাদের একটা লম্বা আলোচনা হয়েছে গত ম্যাচের ব্যাপারে। সেখানে কোচ আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছেন। গত ম্যাচে আমরা যেভাবে ধসে পড়েছি সেখানে একটাই তথ্য এ রকম উইকেটে যারা থিতু হবেন তাদের ম্যাচ শেষ করতে হবে। কারণ উইকেটে গিয়েই নতুন ব্যাটারদের জন্য কাজটা কঠিন। কারণ ওদের ভালো মানের স্পিনার আছে। তাদের বিপক্ষে ব্যাটিং করা...। যারা থিতু হওয়া ব্যাটার থাকবেন তাদের কাজ হবে ইনিংস যত লম্বা করা যায়। হাসারাঙ্গার বিপক্ষে বাঁহাতি ব্যাটার যারা থাকবেন তাদের বেশি খেলা উচিত। কারণ বাঁহাতিদের বিপক্ষে সেও তো ইফেক্টিভ না যতটা ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে। এ রকম কিছু তথ্য আমাদের দেওয়া হয়েছে যেগুলো সামনের ম্যাচে সবাই কাজে লাগাবেন আশা করি।’ তামিমের কথায় উঠে এলো, দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করে ইনিংস বড় করার ব্যাপারটাই, যেটা আগের ম্যাচে করে দেখিয়েছেন চারিথ আসালাঙ্কা, ‘এখানে যে রকম উইকেট তাতে এখানে সবচেয়ে বেশি দরকার হচ্ছে যারা উইকেটে থিতু হবেন তাদের আসলে অনেক লম্বা ইনিংস খেলতে হবে। আমি আর শান্ত ভাই যেভাবে থিতু হয়েছিলাম ওখানে যদি আমরা কয়েকটা ওভার থাকতে পারতাম অন্তত ৫ থেকে ১০ ওভার। যদিও আরও খানিকটা থিতু হতে পারতাম তাহলে ম্যাচটা অনেক ভালোভাবে বেরিয়ে আসত এবং পরবর্তী ব্যাটারদের জন্য সহজ হয়ে যেত। আমার বার্তা থাকবে যারা থিতু হবেন তাদের শেষ পর্যন্ত খেলার চেষ্টা করতে হবে, ম্যাচটা বের না হওয়া পর্যন্ত। কারণ নতুন ব্যাটার যদি উইকেটে যান তাহলে তার জন্য একটু কঠিন সময়।’
প্রথম ম্যাচটা ভুলে গিয়ে তাই সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে ভালো করারই লক্ষ্য বাংলাদেশের, জানিয়েছেন তামিম, ‘দলের লক্ষ্য হচ্ছে যেহেতু তিন ম্যাচের সিরিজ, একটা হয়েছে এবং সামনে আরও দুই ম্যাচ বাকি আছে। আমরা দুই ম্যাচের চিন্তা করছি না কারণ সামনের ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে টিকে থাকতে। আমাদের সবার সামনের ম্যাচে ফোকাস থাকবে।’
