কেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ১১

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

কেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৫২ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। গত সোমবার দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কেনিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ৩৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। একপর্যায়ে বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

১৯৯০ সালের ৭ জুলাই কেনিয়ার গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকে স্থানীয় ভাষায় ‘সাবা সাবা’ আন্দোলন বলে অভিহিত করা হয়। কেনিয়ার তৎকালীন স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল মোইয়ের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন হয়েছিল। দিনটির স্মরণে প্রতি বছরের ৭ জুলাই কেনিয়ার মানুষ মিছিল বের করে। তবে এবার মিছিলটি কেনিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। রাজধানী নাইরোবির কেন্দ্রস্থলে যাওয়ার বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। নাইরোবি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক ম্যালকম ওয়েব জানান, কেনিয়ার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিক্ষোভের প্রাক্কালে গত রবিবার এক্স পোস্টে কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকমেন বলেন, আমরা জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যারা শান্তিপূর্ণ মিছিলে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা ঘটাবে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

গত মাসেও দুর্নীতি, পুলিশি নির্যাতন এবং সরকারবিরোধীদের গুমের প্রতিবাদে হওয়া অনুরূপ বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নেয়। কেনিয়া ন্যাশনাল কমিশন অন হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত মাসের বিক্ষোভে সারা দেশে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে। সোমবারের এই বিক্ষোভে তরুণরা ব্যাপকভাবে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ এনেছে যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সশস্ত্র ভাড়াটে লোক পাঠিয়ে আন্দোলনকে কলঙ্কিত করছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, এই বিক্ষোভ একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা। রাজনৈতিকভাবে ২০২২ সালে নির্বাচিত রুটো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি প্রধান বিরোধী নেতা রাইলা ওডিঙ্গার সঙ্গে একটি জোট গঠন করেছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনকে ঘিরে এখনই তার জন্য কোনো সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালের জুন থেকে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে এবং অনেককে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত