যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই দফা বৈঠক

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৭:২২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেছেন। গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে এ আলোচনা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই নেতার এই অনির্ধারিত বৈঠক এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। এ সময় কোনো মিডিয়ার প্রবেশাধিকার ছিল না। যখন দুই নেতা হোয়াইট হাউজে আলোচনায় বসেন, ঠিক সেই সময় ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় কমপক্ষে ৯৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউজে এক নৈশভোজের সময় দুই নেতা বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে বৈঠক করেছিলেন। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর নেতানিয়াহুর এটি তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর। মঙ্গলবারের আলোচনার আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে গাজা নিয়েই নিবিড়ভাবে আলোচনা করতে চান। ট্রাম্প বলেন, আমাদের এর সমাধান করতে হবে। গাজা একটি ট্র্যাজেডি এবং আমিও এটির সমাধান চাই, আমার মনে হয় অন্য পক্ষও তা চায়।

এদিকে, আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলোচনা থেকে খুব কম তথ্য বাইরে এসেছে। তাই ঠিক কী ঘটছে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে এবং ওয়াশিংটন আশা করছে যে, সপ্তাহের শেষের দিকে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হবে।

এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক সংকটের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধ শেষ করতে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে না পারলে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নিতে পারে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে বক্তৃতাকালে ল্যামি গাজায় ত্রাণ বিতরণের নতুন ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) গাজায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু জিএইচএফের কয়েকটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে জড়ো হওয়া ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনার পর সংগঠনটির তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে গাজার সব ফিলিস্তিনিকে ভূখণ্ডের দক্ষিণে একটি শিবিরে স্থানান্তরের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েল কার্টজ বলেন, তিনি রাফাহ শহরের ধ্বংসাবশেষের ওপর একটি মানবিক শহর গড়ে তুলতে চান। যেখানে প্রাথমিকভাবে প্রায় ছয় লাখ ফিলিস্তিনি থাকবে পরে পুরো ২১ লাখ মানুষের গাজা জনগোষ্ঠীকেই সেখানে রাখা হবে। তিনি বলেন, ভেতরে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে তারা হামাসের সঙ্গে যুক্ত নয়। একবার ভেতরে ঢুকলে তাদের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত